বরিশাল লাইভ বেঁচে থাকুক অনন্তকাল-লিটন বাশার

মার্চ ২৯ ২০১৭, ২২:৪৬

একদা মিডিয়া বলতে মানুষ ছাপানো পত্র-পত্রিকাকেই ভাবত। এখন প্রযুক্তির ছোয়ার এর ব্যাপ্তি বেড়েছে। আকাশ সংস্কৃতির সাথে যুক্ত হয়েছে অনলাইন গণমাধ্যম। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে অজানাকে জানতে হুমরি খেয়ে পড়ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। কোন কিছুই এখন আর গোপন থাকছে না। সব তথ্যই ঢেলে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক সভ্য সমাজের সম্মুখে। মিডিয়া আজ শক্তিশালী এক মাধ্যমে রুপ নিয়েছে। আবার সমালোচনার পাত্র হয়ে উঠেছে রাতারাতি। গণমাধ্যমের এ ভূমিকার জন্য নিজে একজন মিডিয়া কর্মী হিসাবে নিজের দায় স্বীকার করে নিয়ে বলছি এ জন্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কম দায়ী নয়।

সমাজের নেতিবাচক প্রভাবের কু-ফল হিসাবে গনমাধ্যমেও তার ছোয়া লেগেছে। এটা শুধু অনলাইন মিডিয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বরিশাল থেকে প্রকাশিত স্থানীয় অনেক দৈনিক পত্রিকা আজ বিতর্কিত হয়ে উঠেছে পাঠকের মাঝে। সমাজের কাছে।

সাংবাদিকতার অঙ্গনে তৈরী হয়েছে নানান বৈরী পরিবেশ। এর মাঝেও রত্নগর্ভা বরিশালের কিছু উদয়মান তরুন নানান বৈরী পরিবেশ মোকাবেলা করে খুলে বসেছেন বিভিন্ন নামের নিউজ পোর্টাল কিংবা অনলাইন পত্রিকা।বিভিন্ন মানুষের ভ্রু-কুচকানো দেখেও তারা মন খারাপ না করে সার্বক্ষনিক এসব নিউজ সাইট গুলোতে খবর আর ছবি আপডেট করতেই ব্যস্ত। এ সব অনলাইন পত্রিকার তরুন সম্পাদকদের মধ্যে রয়েছে সংবাদ ও ছবি প্রচার নিয়ে এক চমৎকার প্রতিযোগীতা। পাঠকের দৃষ্টি আর্কষনের জন্য কে কার আগে বস্তুনিষ্ট সঠিক সংবাদ প্রচার করে পাঠকের লাইক কিংবা ইতিবাচক মন্তব্য পেতে পারেন তার জন্য রাত জাগা পাখির ন্যায় এ সম্পাদকেরা সারা রাত ব্যস্ত থাকেন।বরিশালের অনলাইন পত্রিকা গুলো অবশ্যই বরিশালের খবরকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে এখানকার মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন ঠিক কিন্ত এরা খবরের সন্ধানে গুগলের পথ ধরে সারা রাত ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর নানান প্রান্তে। এমনকি পৃথিবীর বাইরের বাসিন্দা হিসাবে পরিচিত এলিয়েনদের খবর পর্যন্ত মেলে এ সব অলাইন পত্রিকায়।

প্রযুক্তির ছোয়ায় অনলাইনে যে ঝড় বইছে তার মধ্যেই একটি হচ্ছে বরিশাল লাইভ। এই বরিশাল লাইভের লাইভ (প্রান) হিসাবে যাকে আমি চিনি সে আমার অত্যন্ত স্নেহের সাইদ বারী তুর্য্য ( শিবলু)। মেধাবী এ তরুনকে চোখে দেখার আগেই অনেক বার নাম শুনেছি। এটা নিশ্চয়ই কোন গুনী মানুষের গর্বের বিষয়। আবার তুর্য্যর নাম টা শুনেছি বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল আলমের মুখে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম মুগ্ধ হয়েছিলেন তুর্য্য’র প্রযুক্তির দখল আর অভিজ্ঞতা নিয়ে। পরে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আকাশ ছোয়া জনপ্রিয় ফেসবুকে তুর্য্যর সাথে পরিচয়। পরবর্তীতে ঘনিষ্টতা। অন্যদের মত তুর্য্যর অনলাইন পত্রিকার ভুল গুলো আমার চোখ এড়াতো না। সবার ভূলে ভরা অনলাইনের খবরে কোন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও তুর্য্য’র মত যারা খুব কাছের মানুষ তাদের ভুল দেখলে সাথে সাথেই বলার চেষ্টা করেছি। তুর্য্য কে দেখেছি আমার পরামর্শ গ্রহন করে সে তার ভূল গুলো সুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবুও আমি বলছি না বরিশাল লাইভ নির্ভূল কোন অনলাইন নিউজ পোর্টাল । ভূল-ভ্রান্তি নিয়েই মানুষ্য জীবের পথচলা। বরং যে মাধ্যমের বয়স যত বেশী পরিসংখ্যানে তার ভূল তত বেশী। সেই

দিক থেকে বরিশাল লাইভ চার বছরের একটি দীর্ঘ পথ পারি দিয়েছে বেশ সাফল্যের সাথে। নিজের রুটি রুজির সন্ধানে যেহেতু আমাকেও খবরের পিছনে ছুটতে হয় তাই আমিও চোখ বুলাই বরিশালের খবরের দিকে। আমার দৃষ্টি স্থানীয় ছাপার দৈনিকের চেয়ে অনলাইনের দিকেই বেশী থাকে। কারন অনলাইন গুলো খুব দ্রুত আপডেট করা হয়ে থাকে। আবার সংশ্লিষ্ট সকল মহলের বক্তব্য দিয়েই বস্তুনিষ্টতা রক্ষার এক চেষ্টা আমি লক্ষ্য করি। যা ছাপানো দৈনিক গুলোতে খুব কমই মেলে।
ছাপানো দৈনিক পত্রিকা আর বড় মিডিয়া হাউজ গুলো আজো কর্পোরেট হাউজের স্বার্থে কাজ করে। পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে ৪৭ বছর পরও আমরা পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। স্বাধীনতার নামে পরাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে মালিকের স্বাধীনতা, আমাদের ব্যক্তিত্বের অভাব-দূর্বল মানুষিকতা আমাদের আরো বিবেকহীন করে তুলেছে। সম্পদ অর্জনের অশুভ প্রতিযোগিতায় আমরা মগ্ন হয়ে আছি। আমাদের দূর্বলতার সুযোগে এদেশে বার বার জারী হয়েছে সামরিক শাসন, সেনা শাসন, বন্ধুকের জোড়ে ক্ষমতা দখল, রাজনৈতিক লেবাসে স্বৈরতন্ত্র কায়েম, দলবাজি, টেন্ডারবাজী , জঙ্গীবাদ আর আতœীয়করন আমাদের ডুবিয়ে ছেড়েছে। দলের তাবেদারী করতে দলীয় মুখপত্রের নামে গনমাধ্যমের একের পর এক ঢালাও অনুমোদন, দলীয় তল্পিবাহক সাংবাদিক নিয়োগ আমাদের অবক্ষয়ের মুল কারন হয়ে দাড়িয়েছে। কোটি বেকারের বাংলাদেশে আমরা যারা ভাগ্যের জোড়ে সংবাদ পত্রে একটি চাকুরী জুটিয়ে নিয়েছি তারা মালিকের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। যে দায়বদ্ধতা নিয়ে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া,সানাউল্লাহ নূরী,বজলুর রহমান, রশিদ তালুকদার সাংবাদিকতা করে গেছেন তা এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না।
সাংবাদিকতার বাইরে তাদের রাজনৈতিক আর্দশ ছিল, কিন্তু সে আর্দশ ছিল দেশ প্রেমের। কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। আমাদের বড় মিডিয়া হাউজ গুলো যখন ক্ষমতা ধরদের তোষন নীতিতে ব্যস্ত তাদের তাবেদারীতে ব্যস্ত আমরা খেটে খাওয়া বিবেকহীন লোক গুলো সেখান থেকে বেশ ভাল স্বাধীন অবস্থানে রয়েছে বরিশালের অনলাইন পত্রিকা গুলো। নিজেরাই স্বাধীন ভাবে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার জোরে মানুষের মন জয় করছে। এ ভাবেই হয়তো গণমাধ্যম আগামীতে স্বাধীন পথচলায় সাধারন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাকরে মানুষের মন জয় করবে। বরিশালে বর্তমানে অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা কত তা আমি বলতে পারবো না। তবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এ অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা ও জনপ্রিয়তা।
এত গুলো অনলাইনের ভিরে সব গুলো হয়তো প্রতিদিন আমার দেখা হয় না। তবুও হাতে গোনা যে কয়টি অনলাইন পত্রিকার খবর পড়ি তার মধ্যে বরিশাল লাইভ একটি। আজ এ অনলাইন পত্রিকাটির চতুর্থ বর্ষপূর্তি। এ দিনে টাকা খরচ করে কোন আয়োজন না করে সেই টাকা বাচিয়ে অসুস্থ্য সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর চিকিৎসার খরচ বাবদ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বরিশাল লাইভ কর্তৃপক্ষ। এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। অবশ্যই আমি মনে করি একটি কেক কাটা অনুষ্ঠান করে ফুর্তি করার চেয়ে কারো জীবন বাচানো জরুরী। আর মানুষের জন্যই বরিশাল লাইভ বেঁচে থাকুক অনন্তকাল। শুভ হোক বরিশাল লাইভের পথচলা। এ অনলাইনের সাথে যুক্ত প্রতিটি মানুষের জীবন হোক সুখী ও সমৃদ্ধ। বরিশাল লাইভের জন্য রইলো আমার শুভ কামনা।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>