বরিশাল শেবাচিমে দালাল চক্রের রক্ত বেচা-কেনার জমজমাট বাণিজ্য

আপডেট : August, 13, 2017, 10:03 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে দালাল চক্রের চলছে অবৈধ জমজমাট রক্ত বাণিজ্য। এখানে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা ব্লাড ব্যাংকে মাদকাসক্ত, যৌনকর্মী এবং পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে দ্বিগুন দামে বিক্রি করছে টেকনিশিয়ান ও দালাল চক্র। এসব দূষিত রক্ত শরীরে প্রবেশ করালে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকিই বেশি থাকে। কমিশনের আশায় হাসপাতালের কিছু কর্মচারী এবং নার্সরা ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত কিনতে রোগীর স্বজনদের উৎসাহিত করেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র বরিশালের বাইরে থেকেও পরীক্ষ-নিরীক্ষা ছাড়া রক্ত সরবরাহ করছে দালাল চক্র। হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও প্রশাসন কোন অভিযান না চালানোর কারনে হাসপাতালের ব্লাট বাংকটি গড়ে উঠছে রক্ত বেচা-কেনার দোকান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ,গাইনী বিভাগ,সার্জারী বিভাগ,প্রসূতি বিভাগ সহ কয়েকটি ওয়ার্ডের সামনে রয়েছে দালাল চক্রর সদস্যরা। সূত্রে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে দিন দিন গড়ে উঠেছে রক্ত ব্যবসার সিন্ডিকেট চক্র। হাসপাতালের দায়ত্বরত টেকনিশিয়ান সুনিল ,অষোক ও দালাল সোহেল,আজিম সিন্ডিকেটকে কমিশন দিয়েই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দালালরা শেবাচিম ও সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে সব সময় ঘোরাফেরা করেন। তাদের টার্গেট থাকে সহজ-সরল এবং গ্রামের মানুষ। কোন ওয়ার্ডে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলেই কমিশনের আশায় দালালদের কাছে খবর পৌঁছে দেন হাসপাতালেরই কতিপয় কর্মচারী ,নার্সরা। কর্মচারী ও নার্স এসে রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে অবৈধ ব্লাড ব্যাংকের দালাল ও টেনিশিয়ানদের সন্ধান ও মোবাইল নাম্বার দেন। সেখান থেকে রক্ত কিনতে তাদের উৎসাহিত করেন। রক্ত সরবরাহকারী চিহিত সোহেল ওরফে দালাল রক্ত সোহেল রক্ত সরবরাহ করে। শেবাচিম হাসপাতালে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে তাদের জমজমাট ব্যবসা মূল হোতো টেকনিশিয়ান সুনিল ও তার সাথে কয়েক জন টেকানশিয়ান। এই রক্ত সংগ্রহ করচ্ছে মাদকাসক্ত, যৌনকর্মী এবং পেশাদার রক্তদাতা ও যুবকদের কাছ থেকে। রক্ত নেওয়ার আগে রক্তদাতার হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি, সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়ার জীবাণু এ চারটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এই ব্লাড ব্যাংকে এরকম কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রক্ত নেওয়া হচ্ছে। কেবলমাত্র রক্তের গ্রুপ এবং ক্রসম্যাচিং পরীক্ষা করেই রোগীর শরীরে প্রবেশ করাচ্ছে। রক্ত দূষিত হওয়ায়

আরোগ্যের পরিবর্তে রোগীর মৃত্যুঝুঁকিই বেশি থাকে। তাছাড়া রোগী নানা মরণব্যাধিতেও আক্রান্ত হতে পারে। শেবাচিমে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর এক ভাই সোহাগ বলেন, আমার বোনের দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। অনেক কষ্টে এক ব্যাগ সংগ্রহ করেছি। বাধ্য হয়ে আর এক ব্যাগ রক্তের জন্য দালালকে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্লাড ব্যাংকে ভেজাল রক্ত রোগীর শরীরে প্রবেশ করালে সে নানা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। দালাল সোহেল ,আজিম দালালরা রক্তের দাম ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পযন্ত বিক্রি করে। এরা রোগীদের পদে পদে ঠেকিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন হাজার-হাজার টাকা। এরা আবার মেয়াদোত্তীর্ণ রক্তও বিক্রি করে রোগীদের প্রতারিত করছে। এরা রেডক্রিসেণ্ট সোসাইটি, সন্ধানী, ব্লাড বাংকের কিছু লোকের ম্যাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করে দালাল চক্রটি বিক্রি করে আসছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শেবাচিমে রক্ত বেচা-কেনার মূল হোতা সোহেল নামে এক যুবকে। তিনি সব সময়ই হাসপাতালের ব্লাড বাংকের সামনে ঘুরাঘুরি করেন। এমন কি রোগীদের চাপ একটু কম থাকলে ব্লাড বাংকের মধ্যে প্রবেশ করে দায়ত্বরত টেকনিশিয়ানদের সাথে হিসাব নিকাশ নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে দেখা যায়। রোগীর ভাই পরিচয় দিয়ে সংবাদকর্মী জানতে পারে তার ব্যাবসা পরিচালনার রহস্য। এব্যাপারে টেকনিশিয়ান সুনিল ও অসোকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,আমরা কিছুই জানিনা। কিন্তু স্থানীয় কিছু যুবক এখানে এস রোগীদের টাকার বিনিময় রক্ত দিচ্ছে শুনেছি। একটি সূত্রে জানা গেছে, রক্তের দালাল সোহেল,মজিবর সহ কয়েক জনকে কয়েক দিন আগে দালালি কার্যক্রম অবস্থায় হাতে নাতে ধরে হাসপাতালে নিচতলার ব্লাড বাংকের সংগঠনের কতৃপক্ষ। পরে দালাল সদস্য সোহেল,মজিবর,আজিম সহ অন্য গনধোলাই খেয়ে প্রানে বেচে আসে তারা। এবং কি তারা হাসপাতালে কোন দালালি কর্যক্রমের সাথে জড়াবেনা বলে,মুচলেকা দিয়ে আসে। কিন্তু গনধোলাই খাওয়ার ২ /৩ দিন যেতে না যেতেই আবারও দালাল চক্রের সদস্যদের দেখা যাচ্ছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা.এস.এম সিরাজুল ইসলাম বলেন,হাসপাতালে দালালদের ধরার জন্য আমাদের হাসপাতাল কতৃপক্ষ এবং প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে।

Facebook Comments