বরিশাল সিটি নির্বাচন: সাদিক অাব্দুল্লাহকে ঘিরেই সকল সমীকরন

অক্টোবর ২২ ২০১৭, ১৩:৫১

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। মেয়র পদে বিএনপির হাফ ডজনেরও বেশি মনোনয়ন প্রার্থী এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। তবে আওয়ামী লীগে সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহকে ঘিরেই চলছে হিসাব-নিকাশ। মাঠে আওয়ামী লীগের আরেকজন প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সাদেক আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে নির্বাচনের চরিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে। এক্ষেত্রে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশালে একদিকে যেমন খুব সহজ হয়ে যাবে বিএনপির জয়, তেমনি ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়তে পারবে না আওয়ামী লীগ। বিএনপির নেতারাও বলছেন এমন কথা। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কে পান সেটা দেখার প্রতীক্ষায় দুই দলের নেতাকর্মীরা।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে দলগুলোর মধ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিলিয়ে দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠে নেমেছেন ডজনখানেক নেতা। এর মধ্যে অবশ্য বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশি। আওয়ামী লীগে রয়েছেন দু’জন। এর মধ্যে সাদিক আবদুল্লাহ সক্রিয় ও মাঠে নামলেও কর্নেল (অব.) ফারুক শামীমের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ নেই এলাকার নেতাকর্মীর। মনোনয়ন পেতে তিনি ঢাকায় লবিং-তদবির সবই করছেন।

মেয়র পদে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। এ কারণে বিএনপির মনোনয়ন পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন বহু নেতা। এ তালিকায় আছেন বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিসিসি কাউন্সিলর জিয়াউদ্দিন সিকদার ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আফরোজা নাসরিন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদেক আবদুল্লাহ এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেপথ্য সমর্থনে নির্দলীয় পরিচয়ে রাজনীতিতে নামা কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় হলেও কর্নেল (অব.) ফারুক শামীম বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে হেরে যান। নির্বাচন নিয়ে নগরীতে যে আলোচনা চলছে তার বেশির ভাগজুড়েই আছেন সাদেক আবদুল্লাহ। এখানে নির্বাচনী সমীকরণ যেন তাকে ঘিরেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ সমর্থন তার দিকেই। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাকে

মেয়র প্রার্থী করার সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রে চিঠি দিয়েছেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়ও তাকে মেয়র প্রার্থী করার দাবি জানানো হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সাদেক। মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগকে গতিশীল করেছেন তিনি। এছাড়া নেতাকর্মীরা সবাই তার পক্ষে। এ অবস্থায় সাদেক মনোনয়ন পেলে জয় পাওয়া সহজ হবে। অপরদিকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন কর্নেল (অব.) ফারুক শামীম। আওয়ামী লীগে প্রকাশ্য তার কোনো কর্মী-সমর্থকের দেখা মেলে না। এরপরও ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে তার পক্ষে বরিশালে বিশাল বিশাল ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। বরিশালেও খুব একটা আসেন না তিনি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারেন। কিন্তু কথা হল নেতাকর্মীরা কাকে চাইছে। কর্নেল (অব.) ফারুক শামীমের সঙ্গে দলের কিছু নেতাকর্মী থাকলেও মানা যেত। কিন্তু তার সঙ্গে তো কেউ নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হঠাৎ দলীয় মনোনয়নে তিনি নির্বাচন করেন। তবে তখন তার পেছনে কাজ করেছেন সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণসহ তার কর্মীবাহিনী। কিন্তু এখন তার পেছনে কে নামবে? মনোনয়ন চাইলেই তো আর হল না, মাঠ পর্যায়ে কাজ করে সমর্থনও তৈরি করতে হয়। তার কোনো কিছুই তো নেই। এক্ষেত্রে তার মনোনয়ন পাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, সাদেক আবদুল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত। এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিএনপির অনেকে। নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দলটির একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কর্নেল (অব.) ফারুক শামীম হলে বিএনপি প্রার্থী হেসেখেলে জিততে পারবে। তবে সাদেক আবদুল্লাহ প্রার্থী হলে লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি। সাদেক প্রার্থী হলে জয়ের জন্য মরণ কামড়ও দেবে আওয়ামী লীগ।

কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের মোবাইল ফোনে বহুবার কল দেয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে বিএনপির কোনো মাথাব্যথা নেই। এটি বিএনপির ঘাঁটি। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এখানে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবে।

বরিশালে সর্বশেষ সিটি নির্বাচন হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। এ সময় এখানে ভোটার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ২৫৭ জন। চার বছরের ব্যবধানে ৩৬ হাজারের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে সংখ্যা এখন ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৭ জন।

সূত্রঃ যুগান্তর

Facebook Comments