বর্ষায় যত্নে থাকুক পা

এপ্রিল ২৫ ২০১৭, ০৯:১৫

চলছে বর্ষা মৌসুম। একটু বৃষ্টি নামলেই পথে জমে যায় পানি। তাছাড়া এসময়ে সবখানে থাকে কাদার উপদ্রব। কিন্তু বাইরে তো যেতেই হবে। এসব কাদাপানি মাড়িয়ে যাওয়ার সময় পা ও নখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতে পারে ফাঙ্গাল ইনফেকশনও। তাই বর্ষ‍ার দিনগুলোতে পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি।

পা পরিষ্কার রাখুন : ফাঙ্গাল অ্যাটাক থেকে বাঁচতে পা সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। বাইরে থেকে ফিরে পা এন্টিসেপটিক সোপ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রাশ দিয়ে নখের ভেতরে জমা ময়লা পরিষ্কার করুন। পা দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকলে গরম পানিতে লবণ দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন ঘষে ঘষে। পরিষ্কার করার পর পা ভালোভাবে মুছে নিন। আঙুলের ফাঁকগুলো শুকনো রাখুন।

ছোট রাখুন পায়ের নখ : পায়ের নখ বড় হলে নখের ভেতর কাদা ঢুকতে পারে। তাই বর্ষার দু’মাস পায়ের নখ কেটে ছোট রাখুন।

সঠিক জুতো : কর্নভার্স, শু, হাই হিল, কাপড়ের জুতো এ মৌসুমে আলমারিতেই তোলা থাক। কাপড়ের জুতো এসময়ে সবচেয়ে খারাপ। কারণ এতে দীর্ঘক্ষণ পা ভেজা অবস্থায় থাকে। আঙুল খোলা থাকে এমন জুতো পরুন। কাদা এড়াতে চাইলে পানি প্রবেশ করে না এমন জুতো পরুন। ব্যাগে একজোড়া স্লিপার ও টাওয়েল রাখুন।

জুতো পরিষ্কার রাখুন : পায়ের মতোই জুতো পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। এমন জুতো পরুন যা পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে ক্ষতি নেই। ইনফেকশন এড়াতে বাইরে থেকে ফিরে জুতো ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ভেজা জুতো পরবেন না।

পেডিকিওর : বর্ষার মৌসুমে পেডিকিওর করা খুব জর‍ুরি। গরম পানিতে পা দেওয়ার আগে অল্প সরষের তেল ম্যাসাজ করে নিন। পানিতে লবণ, ভিনেগার, লেবু, বা এন্টিসেপটিক ব্যবহার করতে পারেন।

বাইরে থেকে ফিরে পা ভালভাবে পরিষ্কার করে ফেরুন। বর্ষায় পায়ের নখ যত ছোট রাখা যায় ততই ভালো, নয়তো নখের নিচের জমে থাকা ময়লা প্রচুর ভোগান্তি কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিদিন গোসলের সময় পা  ঘষে পরিষ্কার করা

উচিত। যদি হাতে সময় থাকে তবে ১০ মিনিটের জন্য শাওয়ার জেল অথবা শ্যামউপর পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে, ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেবেন।

বাড়িতেই পেডিকিউর করে নিতে পারেন। প্রথমেই নিমপাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। তারপরে এতে পাতিলেবুর রস, অল্প লবন ও শ্যাম্পু মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপরে পিউমিস স্টোনের সাহায্যে গোড়ালি এবং পায়ের তলা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। পা শুকনো করে মুছে ভালো কোন ক্রিম পুরো পায়ে লাগিয়ে নিন।

এসময় অনেকের পায়েই কালো কালো ছোপ পড়তে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে, মসুর ডাল বাটা, দুইটা আমন্ড বাটা, দুধ এবং ১ চা চামচ গ্লিসারিন দিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে নিন। পায়ে লাগিয়ে রাখুন, শুকিয়ে গেলে দুধ দিয়ে ভালো করে ঘষে তুলে ফেলুন। তারপর হালকা গরম পানিতে পা ধুয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

ফুট মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে, হলুদ বাটা, নিম পাতা বাটা মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট । তারপরে হালকা গরম পানিতে ঘষে ঘষে পা ধুয়ে নিন। পা ভালো করে মুছে লাগিয়ে নিন হালকা একটু অলিভ অয়েল। ঠাণ্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। ক্লান্তিও দূর হবে। সানট্যানও কমাবে।

গোড়ালির শক্ত চামড়া দূর করতে ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল এবং নারকেল তেল সমপরিমাণে মিশিয়ে নিয়ে এর সাথে মেশান ২ চা চামচ চিনি ও লেবুর রস। পায়ের শক্ত চামড়ায় ঘষতে থাকুন যতক্ষন না তেল ত্বকে শুষে নিচ্ছে।

পায়ে গন্ধ হলে, নিয়মিত পেডিকিউর রুটিন মেনে চলুন। পা পরিস্কার করে মুছে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান হালকা করে। এরপরে একটু খানি ট্যালকম পাওডার লাগিয়ে নিন। সব সময় বন্ধ জুতো না পরে খোলা জুতো বা স্যান্ডেল পড়ুন। অফিসে যদি জুতো পরতেই হয় তাহলে সুতি মোজা পড়ুন। আর মাঝে মাঝে জুতো খুলে রাখুন, বাতাস চলাচলের জন্য। প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পড়ুন।

তথ্য ও ছবি : ইন্টারনেট

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>