বাংলাদেশের ছেলের ভালবাসায় বন্দি হলেন থাইল্যান্ড এর মেয়ে

আপডেট : May, 18, 2017, 5:40 pm

ফেসবুকে দেখা ও প্রেম। তারপর ভালবাসার টানে চিরবন্দি হলেন থাইল্যান্ডের তরুণী সুপুত্তো ও নওগাঁর মোবাইল মেকানিক অনিক খান।

সুপুত্ত ওরফে ওমের বাড়ি থাইল্যান্ডের চো-অম জেলার পিচচোবড়ি এলাকায়। বাবা উইছাই ও মা নট্টাফ্রন আলাদা থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। তিনি পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। এখন ফাস্টফুডের ব্যবসা করেন। বন্ধুবান্ধব অনেকের বহুবিবাহে আসক্তি তার ভালো না লাগায় ৩৬ বছর বয়সেও তিনি অবিবাহিতা রয়ে গেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ নওগাঁ জেলার আত্রাই এলাকার শাহাগোলার আজাদ হোসেনের ছেলে ২৪ বছরের অনিক খানকে ফেসবুকে দেখে মুগ্ধ হন থাইকন্যা। পরে ধীরে ধীরে তা ভালোবাসায় রূপ নেয়। তাকে ভালোবেসে বিয়ে করবেন এমন স্বপ্নই ছিলো তার। আর তাই বুধবার বিকেলে নাটোরের আদালতে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

তাদের প্রেমের প্রথম দিকের কথা মনে করে ওম জানান, দোকানে বসে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান। অনিক প্রস্তাব গ্রহণ করলে তাদের মধ্যে চেনাজানা শুরু হয়। ফোনে কথাবার্তাও চলতে থাকে। তারা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ওম বাবা-মার অনুমতি নিয়ে ভালবাসার টানে একবার ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশে। বিমানবন্দরে অনিককে দেখে তার আরও ভালো লাগে। অনিকের পরিবারের সাথে দেখা করে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন প্রথমে। কিন্তু অনিকের পরিবার আপত্তি করে। তবে অনিক

ও তার পরিবারের সদস্যদের অাপ্যায়নে তিনি মুগ্ধ হন।

মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় সেবার তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে যান। আর যাওয়ার সময় বলে যান ছয়মাস পর আবার আসবেন। কিন্তু ছয়মাস অপেক্ষা করতে পারেন তিনি। এ মাসের প্রথমদিকে তিনি আবারও অনিকের কাছে ছুটে এসেছেন। বিয়ে করার জন্য অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেন। দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেন। না খেয়ে অনশন পর্যন্ত করেছেন। অবশেষে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বুধবার তারা ইসলাম ধর্মীয় ও হলফনামামুলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

বিয়ের পর ওমের নাম এখন থেকে সুফিয়া খাতুন।

সুফিয়া বলেন, মানুষের জীবন একটা, জীবন সঙ্গীও হবে একটা। কিন্তু তাদের সমাজে তা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, অনিক তার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়েই থাকবে। তাকে পেয়ে আমি খুব খুশি।

নাটোর আদালত চত্বরে বসে অনিক খান জানান, পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে ওমের সাথে তর পরিচয় হয়। তারা এখন ধর্ম ও রাষ্ট্রের আইনকানুন মেনেই সুখের সংসার করতে চান।

অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, মেয়েটি খুবই ভালো। মাত্র ক’দিনে সে আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, শিক্ষিত না, কিন্তু তাতেও ওর কষ্ট নাই।

Facebook Comments