বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের প্রয়োজন হবে না : পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : July, 20, 2017, 11:23 am

‘বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন পরিক্রমা কখনোই থেমে যাবে না। কারণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহে সমগ্র প্রশাসন, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সকলেই উন্নয়নের এই ধারায় সম্পৃক্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গিকার হিসেবেই বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য তথা এসডিজি বাস্তবায়িত হবার ক্ষেত্র সুগম হয়েছে’-এমন আশাব্যাঞ্জক তথ্য প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ পাচারের কোন প্রয়োজন হবে না। ইচ্ছা করলেই তারা যেকোন দেশে যেকোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারবেন। বিদেশিরা যেমন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন, একই প্রক্রিয়া রয়েছে বাংলাদেশিদের জন্যেও। ’

‘আমাদের সরকার আইন ঢেলে সাজিয়েছে। তাই আগে অর্থ পাচারের সুযোগ থাকলেও, এখন আর তেমন বেআইনি পথে যাবার প্রয়োজন হবে না। ”

”প্রকল্পের বিপরীতে ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে যারা প্রতারণা করেছেন, তাদের বিচার শুরু হয়েছে। কেউই রেহাই পাবে না”-উল্লেখ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ‘এসডিজির অগ্রগতি সম্পর্কিত জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম’-এ বাংলাদেশের ভূমিকার আলোকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ‘এমডিজির সাফল্যের সিড়ি বেয়েই বাংলাদেশ এসডিজিতে অগ্রগতির পথে ধাবিত হচ্ছে। এমডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্টভাবে এবং লক্ষ্য স্থির করে কাজ শুরু করেছে। ’

‘সামনের বছরের শেষে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ অথবা মহাজোট যদি জয়ী হতে না পারে, তাহলে এসডিজি তথা চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির এ ধারা থমকে দাঁড়াবে কিনা’-এই সংবাদদাতার এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এসডিজির ১৭টি অভিষ্টের প্রায় সবগুলোকেই বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশে পরিণত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসডিজির প্রতিটি অভিষ্ঠকে সর্বসাধারণের মধ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন যে, সমগ্র জনগোষ্ঠী আজ উন্নয়নের পক্ষে একাট্টা হয়েছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থেই বাংলাদেশের মানুষ সামনের নির্বাচনেও তাদের সুচিন্তিত মতামতের সঠিক প্রতিফলনই ঘটাবেন। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এই মুখ্য সচিব ও বর্তমানের মুখ্য সমন্বয়কারি আজাদ এ সময় উল্লেখ করেন, ‘১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আহবান বিশ্বনেতাদের প্রতি রেখেছিলেন, ৪১ বছর পর অর্থাৎ ২০১৫ সালে প্রণীত ‘এসডিজি’

হচ্ছে সেই ভাষণের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ছিল, ‘আসুন, সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি বিশ্ব রচনা করি, যা নির্মূল করবে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অবসান ঘটাবে যুদ্ধ এবং মানবিক বিপর্যয়; এবং  মানবতার কল্যাণে বয়ে আনবে বিশ্ব শান্তি এবং নিরাপত্তা’ (let us together create a world that can eradicate poverty, hunger, war and human sufferings and achieve global peace and security for the wellbeing of humanity)।

আজাদ উল্লেখ করেন, ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতির তথ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপনের সময় সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যকে উদ্ধৃত করেছি। ’ ‘একইভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আরেকটি বক্তব্যকেও জাতিসংঘ ফোরামে উদ্ধৃত করেছি। সেটি হচ্ছে, ‘আমি বিশ্বাস করি যে, যেভাবে এমডিজি অর্জন করেছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনের সক্ষমতাও দেখাবে’ (I am confident that Bangladesh could show its capacity in achieving SDG’s the way it achieved the MDG goals)’ বলেন আজাদ।

সংবাদ সম্মেলনে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫টি ভিশন তথা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের মহাসড়কে উপনীত হওয়া, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়া, ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময়ে পরিণত করা এবং ২১০০ সালে ডেল্টাপ্লান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিরাপদ ব-দ্বীপ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রমকে মূলত এসডিজি বাস্তবায়নের পথে বড় একটি সহায়ক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে’।

“দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা ((Eradicating Poverty and ensuring prosperity in the changing world)” প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (Sustainable Development Goals) বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’ এর কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ জুলাই এবং ১৯ জুলাই বুধবার এটি শেষ হলো। বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহী মিনা।

এসডিজির অগ্রগতি কতটা হয়েছে সে ব্যাপারে স্বেচ্ছায় যে ৪৪টি দেশ প্রতিবেদন উপস্থাপনের অঙ্গিকার করেছিল, তারাই অংশ নেন এই ফোরামে।

Facebook Comments