বাউফলের জামরুল দাদা!

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পিঠে স্কুল ব্যগ, হাতে লাল জামরুল। সবাই খাচ্ছে। চোখে-মুখে খুশীর ঝিলিক। বাড়ীর পথে ফিরে চলা এসব শিশু শিক্ষার্থীর হাতে লাল জামরুল দেখে কৌতুহল থেকেই জানতে চাইলাম, কোথায় পেলে? একরাশ হাসি ছড়িয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার জানালো, আমাগো জামরুল দাদা দিছে। কে এই জামরুল দাদা? এমন কৌতুহলে জানা যায়, তিনি হলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা আবু বকর মিয়া। গ্রামের সবার কাছে তিনি নামে পরিচিত হলেও, শিশুদের কাছে তিনি পরিচিত জামরুল দাদা হিসাবেই। সপ্নের বাড়ীতে শখের জামরুল বাগান করে শিশুদের কাছ থেকে পেয়েছেন এ পরিচিতি।
অলাপচারিতায় জানান, ২০১০ সালে জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা হিসাবে অবসর গ্রহন করেন। ভেবে রেখেছিলেন আবসর জীবনের সময়টুকু কাটাবেন যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে দুরে কোথায়ও। স্বপ্রে বাস্তবায়ন ঘটাতে বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা

গ্রামে তিনি গড়ে তোলেন স্বপ্নের সেই ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবসর জীবনের সময় টুকুন বাগান পরিচর্যা করে কাটিয়ে দেয়ার ইচ্ছা থেকেই বাড়ীর আঙ্গিনায় গড়ে তোলেন চায়না লাল, চায়না সবুজ, আপেল, রেশমি লাল, রেশমি গোলাপি, সাদা ও দুধ মালাইসহ নানান প্রজাতীর জামরুল ফলের দৃষ্টি নন্দন বাগান। জানালেন, বছরের ছয় মাস তার বাগানে ফলন হয় জামরুলের। বাগান পরিচর্যায় তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী মাসুমা আক্তার পড়শিয়া।
আবু বকর মিয়া বলেন, বাড়ির কাছের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা ছুটির শেষে কিংবা ছুটির দিনে চলে আসে তার বাগানে। মুগ্ধ চোখে দেখে ওরা গাছের ডালে ঝুলে থাকা থোকায় থোকায় জামরুল। ওদের সাথে নিয়ে নিজ হাতে জামরুল পেরে দেই। ওদের তখনকার আনন্দটুকু আমায় বেশ প্রান্তি দেয়। তিনি আরো বলেন, দেখতে দৃষ্টিনন্দন ও টক-মিষ্টি হওয়ায় শিশুদের কাছে প্রিয় বেশি চায়না লাল জামরুল।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>