বাণিজ্যিকভাবে সাপের বিষ উৎপাদনের জন্য খামার তৈরি করে দীর্ঘ ১৭ বছরেও মেলেনি অনুমোদন

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ আজ ১৬ জুলাই বিশ্ব সর্প দিবস। পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দিপাড়া গ্রামে রয়েছে একটি সাপের খামার। সাপ, নাম শুনলেই আতকে উঠেন সবাই। তবে ভয়ঙ্কর এই সাপকেই বুকে টেনে নিয়েছে পটুয়াখালীর আব্দুর রাজ্জাক। বাণিজ্যিকভাবে সাপের বিষ উৎপাদনের জন্য গড়ে তুলেছেন সাপের খামার। তবে দীর্ঘ ১৭ বছরেও খামারের অনুমোদন না পাওয়ায় বিষ সংগ্রহ ও বিক্রি করতে পারছেন না এই উদ্যোক্তা। এ কারণে এই খামার এখন তার কাছে গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাজ্জাকের খামার অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়কে নির্দেশনা দিলেও এতদিনে তার অনুমোদন মেলেনি।
প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক বিদেশে সাপের খামার দেখে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ২০০০ সালে দেশে ফিরে স্থানীয়ভাবে সংগৃহিত একটি কিং কোবড়া ও ২৪ টি ডিম দিয়ে খামার শুরু করেন। এরপর দিনে দিনে তার খামারের বেড়েছে সাপের পরিমাণ। বর্তমানে নাজা নাজা, নাজা কেউটিয়া, পাইথন ও কিং কোবড়া জাতের প্রায় তিনশ বিষধর সাপ রয়েছে তার কাছে। এছাড়া প্রতি বছর উৎপাদন হচ্ছে সাপের বাচ্চা। খামার তৈরীর পর থেকে খামারের অনুমোদন ও বিষ সংগ্রহের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছেন আব্দুর রাজ্জাক। তবে এত দিনেও মেলেনি অনুমোদন। এ কারণে বর্তমানে খামারে কর্মরত শ্রমিকদের যেমন বেতন দিতে পারছে না তেমনি খামার পরিচালনা ও সাপের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও আছেন আর্থিক সংকটে। এসব কারণে অনেকে শ্রমিক চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এক সময়ে ১৭ জন শ্রমিক খামারের কাজ করলেও বর্তমানে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।
খামারে কর্মরত শ্রমিক ইসমাইল মৃধা  জানান, শুরু থেকেই তিনি এই খামারে কাজ করছেন। তবে খামারের শুরুর দিকে মালিক তাকে বেতন ভাতা

দিলেও এখন আর তা দিতে পারছেন না। এর পরও ভালোবাসার তাগিদে সে কাজ করছে। আশা করছে সরকারি অনুমোদন পেলে এবং বিষ রপ্তানি করতে পারলে সে ভালো মানের বেতন পাবে। এ ছাড়া সাপের সাথে এখন তার বন্ধুত্ব হযেছে বলে ও জানান তিনি।
অপর শ্রমিক আবুল সিকদার জানান, এসব সাপের জন্য নিয়মিত ব্যাঙ, মুরগির ডিম খেতে দিতে হয়। এ জন্য প্রতি রাতে তারা দল বেধে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাঙ সংগ্রহ করে। এছাড়া সাপের গোসল করানো, পানি খাওয়ানো সহ সব কাজ তারাই সম্পন্ন করে। তবে অনুমোদন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ স্নেইক ভেনাম নামে শুরু করার খামারের উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ২০০৮ সালে বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে সাপের খামার অনুমোদনের জন্য নীতিমালা তৈরী করে সরকার গেজেট প্রকাশ করে। সে অনুযায়ী তিনি সহ অন্তত ৫০ জন খামারি আবেদন করেন। তবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্বে আটকে আছে অনুমোদন প্রক্রিয়া। খামারের অনুমোদনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরও আবেদন করেছিল। আর তার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিলেও তার অনুমোদন পায়নি। আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, বর্তমানে দেশে ঔষধ শিল্প সহ অনেক কাজে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার সাপের বিষের প্রয়োজন হয়ে থাকে। দেশে সাপের খামার ও বিষ সংগ্রহের অনুমোদন দিলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তারা বিদেশেও সাপের বিষ রপ্তানি করতে পারবে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানান, ইতোমধ্যে তিনি খামারটি পরিদর্শন করেছেন। এটি একটি ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। সাপের খামারটি অনুমোাদনে পেলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>