বিএনপিকে ধন্যবাদ দিলেন শেখ হাসিনা

মে ২১ ২০১৭, ১০:০৫

আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করে ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিএনপিকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘তবুও তো তারা একটা পথে এসেছে। জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ বাদ দিয়ে জাতির সামনে কিছু তুলে ধরেছে। ’

গতকাল শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার সভাপতি হিসেবে সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা হয়।

বিএনপির ভিশন-২০৩০ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দিয়েছি বলেই তারা দিয়েছে। যাই হোক, মানুষ তো মানুষকে দেখেই শেখে। আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী দল। তার কাছ থেকে সবাই শিখবে। এটা খুব স্বাভাবিক কথা। সে জন্য আমি তাকে (খালেদা জিয়া) ধন্যবাদ জানাই। অন্তত এত যুগ পরে তাদের একটু মাথায় এলো, তারা ভিশন-২০৩০ দিয়েছে। তারা শিখেছে। যদি নকল করেও পাস করতে চায়, করতে পারবে। সেটা বাংলাদেশের মানুষ বিবেচনা করবে। ’

একই সঙ্গে বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা অর্থসম্পদ লুটপাট করে, মানি লন্ডারিং করে, এতিমের টাকা চুরি করে খায়, তারা এ দেশে দেবেটা কী? আমি যদি বিএনপি শাসনামল, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের তুলনা করি, তবে এই ভিশন একটা ভীষণ অগ্নিকাণ্ড করে মানুষ হত্যাকাণ্ড করা মাথায় আসে। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাদের ভিশনের প্রসঙ্গ এলে সামনে এসে যায় বিভীষিকাময় অবস্থা, যা সৃষ্টি করেছিল বিএনপি। যারা এই অবস্থা সৃষ্টি করেছিল, তারা জাতিকে কিছুই দিতে পারে না, এটাই হলো বাস্তবতা। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলেই লুটপাট করবে। হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবন খুলে চাঁদাবাজি, ফুর্তি করবে, নতুন নতুন ভবন খুলবে। ’

জঙ্গিদের ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গি মরলেই খালেদা জিয়া আহা, উহু করে। এর সঙ্গে তার যোগাযোগটা কী বের করতে হবে। ’

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে নতুন এক উপসর্গ জঙ্গিবাদ, এরা এর মধ্য দিয়ে কী অর্জন করতে চায়? আমরা কঠোরভাবে এদের দমন করব। এর সঙ্গে যেই জড়িত থাক, আমার দলের কেউ জড়িত থাকলেও তাকে ছাড়ব না। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি বলে তাদের নেত্রী তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিল, জাতীয় পার্টি বলে তারা এত দিন ক্ষমতায় ছিল। তারা ক্ষমতায় থাকার কথা বলে, তবে দেশ উন্নত হয়নি কেন? আওয়ামী লীগ যদি দেশের উন্নয়ন করতে পারে তারা পারেনি কেন? তাদের উদ্দেশ্য হলো লুটপাট করে খাওয়া আর সম্পদের পাহাড় গড়া। তা না হলে ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া যাদের ঘরে কিছুই ছিল না, তারা

কোটি কোটি টাকা, অবৈধ সম্পদ ও বিশাল লঞ্চবহরের মালিক হয় কিভাবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে মুক্তিযোদ্ধাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে। আর পাকিস্তানিদের তোষামোদ করে। ’ বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সেগুলো  দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তবে দলে জামায়াত-শিবিরের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, পেশিশক্তি বৃদ্ধিতে অনেকেই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মী এবং সন্ত্রাসীদের দলে টেনেছেন। তিনি বলেন, ‘এরা এসে দলের ক্ষতি করে, খুন করে। দয়া করে দল ভারী করার জন্য এদের টানবেন না। ’

মামলা থেকে বাঁচতে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ভাগিদার হতে এরা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরা দলের মধ্যে খুন করে। তারা এতটাই শক্তিশালী হয়ে যায় যে তাদের কনুইয়ের গুঁতায় আমার নেতাকর্মীরা টিকতে পারে না। ’

নিজেদের সফলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যা বলে, তা করে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, এটা এমনি এমনি হয়নি, আমরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালাই না। আমরা দেশ চালাই, দেশের সমস্যা আমরা জানি। আমরা জানি, এ দেশের মানুষের সমস্যা কী। আমরা জানি কোন এলাকায় কী অবস্থা আছে। ’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং কোনো অনিয়ম যেন না হয়। সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে যে আমরা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ যে জাতিকে আমরা একটা উন্নত জীবন দেব। জাতির কাছে দেওয়া ওয়াদা আমাদের পূরণ করতে

হবে; যাতে শিক্ষাদীক্ষায় সব দিক থেকে এ দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেতে পারে। ’

দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতা ভোগের বস্তু না। ক্ষমতা হচ্ছে দায়িত্ব পালন করার একটা সুযোগ। এই সুযোগটা আমরা পেয়েছি। জনগণের কল্যাণে প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি দিন, প্রতিটি মাস, প্রতিটি বছর জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। এর আগে আমাদের কোনো বিশ্রাম নাই। ’

বর্ধিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও জাতীয় পরিষদের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সব সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, উপদপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃকালের কন্ঠ

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>