বিএনপির টার্গেট এক কোটি নতুন সদস্য, জেলায় জেলায় যাচ্ছেন নেতারা

আপডেট : July, 11, 2017, 11:43 pm

ডেস্ক রিপোর্টঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল চাঙ্গা, তহবিল গঠন, দল ভারি ও ডাটাবেজ তৈরির জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গত ১ লা জুলাই এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট ঘোষণা করেন। তিনি দশ টাকা দিয়ে নিজের সদস্য পদ নবায়ন করেন। এই টার্গেট সফল করতে নানামুখী পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কর্মসূচি ঘটা করে উদ্বোধন করতে নেতারা জেলায় গিয়ে সদস্য সংগ্রহ ফরম জেলার প্রতিটি উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। বেগম জিয়ার নির্দেশনায় ১১ জন সাবেক ছাত্রনেতাকে দিয়ে গঠন করা হয়েছে তদারকি টিম। তারা প্রতিটি জেলায় নিয়মিত খোজ খবর নিচ্ছেন এবং আপডেট সম্পর্কে তাকে অবহিত করছেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির তহবিল অনেকটা শূন্য। দলের অধিকাংশই নেতা নির্ধারিত চাঁদা দেন না। বিএনপির দুই অফিসের স্টাফদের বেতন-ভাতা, সভা-সমাবেশ-সেমিনার করাসহ দল চালাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। এ অবস্থা উত্তরণে সদস্য ফরম বিক্রি করে আর্থিক দীনতা কিছুটা লাঘবের আশা করছে দলটি। প্রতিটি সদস্য ফরমের দাম রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। ইতিপূর্বে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য ফরমের দাম ছিলো পাঁচ টাকা।
তবে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের সদস্য হওয়ার চাঁদা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়। নতুন সদস্যের পাশাপাশি যারা পুরনো আছেন তাদের সদস্যপদ নবায়ন করা হচ্ছে। এক কোটি সদস্য ফরম বিক্রি করলে ১০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে। এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে আর্থিক বুনিয়াদ শক্ত হওয়ার পাশাপাশি দল আরো বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। নতুন নতুন সদস্য আসবে। তাদের নাম ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত ডাটাবেজ তৈরি করবে। যাতে কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের সরাসরি যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হবে।
জানা গেছে, প্রতিটি জেলার নেতারা নগদ টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ফরমের রশীদ বই খরিদ করে নিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য ফরম বিক্রি হয়েছে। দলের চেয়ারপার্সনের দুই মাসের টার্গেট অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রতিদিন এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি সদস্য ফরম পূরণ হতে হবে। তবে দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, সময় বাড়ানো হবে। চার থেকে পাঁচ মাস ধরে কর্মসূচি চলতে পারে।
ইতিমধ্যে বেগম জিয়া সারাদেশের নেতাকর্মীদের
সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গতবার আমাদের সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫০ লাখ। এবার আমাদের টার্গেট এক কোটি। সকলে সদস্য হোন, দলের জন্য কাজ করুন। সবাই মিলে দায়িত্ব নিলে এটা কঠিন কাজ নয়।
দলের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও এ গত ৭ জুলাই পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সদস্য সংগ্রহ ফরম সদর সহ জেলার প্রতিটি উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে তুলে দেন। তিনি নিজে ও নতুন করে সদস্য পদ গ্রহণ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে সারা দেশে। বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকবান্ধব দল। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বিএনপি অনেক বেশি শক্তিশালী ও চাঙ্গা। সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে দল আরও চাঙ্গা হবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দুই মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো- নেতাকর্মীদের মাঝে আরো বেশি কর্মস্পৃহা তৈরি এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। সারাদেশে পুরোদমে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিএনপির বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশ লাখ প্রাথমিক সদস্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, বিএনপি তার লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জানান, দলের সদস্য যে কোনো সময় হওয়া যায়। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বছরের যে কোনো সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সদস্য ফরম সংগ্রহ করা যাবে। এই ফরম জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে দলের চেয়ারপার্সন ও মহাসচিবের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাথমিক সদস্য হওয়া যাবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের নেতারা জানান, এই কর্মসূচিতে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা যেতে শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হবে। মনিটরিং টিমে আছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য সামসুজ্জামান সুরুজযুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি রাজিব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।
Facebook Comments