বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতিকেই মূখ্য ভূমিকা নিতে হবে

আপডেট : May, 23, 2017, 11:34 am

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, বিচারক হতে হলে রাষ্ট্রপরিচালনার চার মূলনীতির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। একইসঙ্গে তাকে হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশি নাগরিক। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে প্রধান বিচারপতিকেই মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে বিচারপতির নিয়োগের জন্য তিনি আপিল বিভাগের দুজন এবং হাইকোর্ট বিভাগের দু’জন জ্যেষ্ঠ বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া বিচারপতি নিয়োগে প্রধান বিচারপতি যে মতামত দেবেন, সেই মতামতকে উপেক্ষা করা যাবে না। তবে যিনি বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাবেন তিনি যদি রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে সম্পৃক্ত হন তাহলে ওই মতামত উপেক্ষার সুযোগ রয়েছে।
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালের ৩০ মে হাইকোর্টে রিট করেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। ওই বছরের ৬ জুন হাইকোর্ট বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়নের প্রশ্নে রুল জারি করে। ওই রুলের উপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত  ১৩ এপ্রিল
হাইকোর্ট রিট আবেদনটি পর্যবেক্ষণ সহকারে নিষ্পত্তি করে দেয়।
গতকাল প্রকাশিত ওই রায়ে দেয়া সাত দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মেধাবী, পেশাগত যোগ্যতা ও মর্যাদা সম্পন্ন হতে হবে। আইন সম্পর্কে থাকতে হবে সম্যক ধারণা। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারক নিয়োগের জন্য আবেদন আহবান করা যেতে পারে। যাতে প্রধান বিচারপতি প্রার্থীর সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে  মনোনয়ন দিতে পারেন। পেশাগত অভিজ্ঞতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক মনোনয়নের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৪৫ বছর নির্ধারণ করা উচিত। উচ্চ আদালতের বৃহত্ পরিসরে সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এমন নিবন্ধিত আইনজীবীকে বিচারক হিসাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। এছাড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে তিন বছরের কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিচারককে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা উচিত হবে না বলেও রায়ে অভিমত দেয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান যোগ্যতা হওয়া উচিত সততা। তবে মনে রাখা উচিত যে, একজন ব্যক্তি উচ্চ মেধা সম্পন্ন কিন্তু তিনি সত্ নন, সেক্ষেত্রে তাকে যে কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হলে তা হবে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।
Facebook Comments