বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বরিশালের গনপূর্ত’র কর্মকর্তাদের

জুন ০৫ ২০১৭, ০৮:১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বরিশাল গনপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ গুছিয়ে দেয়া সহ একের পর এক অভিযোগ লেগেই রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তার মধ্যেই মদ সরবরাহকালে আটকের ঘটনার এক মাস না যেতেই নারী কেলেংকারিতে ফেঁসেছেন গনপূর্ত বিভাগের আরেক প্রকৌশলী। পবিত্র রমজান মাসেও দুই পতিতা নারীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের কাছে হাতে নাতে ধরা পড়েছেন মোল্লা রবিউল ইসলাম নামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী। কিন্তু একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ডের পরেও পার পেয়ে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। এমনকি হাতেনাতে ধরে ফেলার পরেও রহস্যজনক কারনে এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছে না পুলিশ। অবশ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও রয়েছে রফাদফার অভিযোগ।
গনপূর্ত বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, টেন্ডার অফিস খ্যাত ভাটারখাল এলাকার গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়টি অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। টেন্ডার কিংবা অনিয়ম এই প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মে পরিনত হয়েছে। সরকার দলীয় এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারদের ছত্র-ছায়ায় থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের দীর্ঘ দিনের পুরানো সহকারী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কর্মচারীরা এখন সম্পদশালী। বাড়ি-গাড়ি সবই তাদের কাছে মামুলি ব্যাপারে পরিনত হয়েছে। তবে গনপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এমন পরিস্থিতি পূর্বে থেকেই বিরাজমান বলে দাবী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত সাবেক এবং ওএসডি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন এর আমল থেকেই অনিয়ম দুর্নীতি এবং লুটপাট চলে আসছে বলে অভিযোগ ঠিকাদারী মহলের।
তারা বলেন, সাবেক প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে বরিশাল থেকে ওএসডি করা হলেও তার সহযোগী চুনোপুটিরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। তারাই বর্তমান প্রকৌশলী মো. ওসমান গনিকে অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফাঁক ফোকর চিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাবেক প্রকৌশলী জাকির হোসেন এর চ্যালারা দুর্নীতিতে না ফাঁসলেও বিতর্ক তাদের পিছু ছাড়ছে না। কখনো বিতর্কিত হচ্ছে মদ নিয়ে আটক হয়ে। এবার বিতর্কে জড়িয়েছে পতিতা নিয়ে ধরা পড়ে। নতুন এই বিতর্কের সৃষ্টি করেছে গনপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম। তিনি শুধু নিজেই বিতর্কে পড়েননি। বিতর্কে ফেলেছেন গোটা গনপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়কে। পাশাপাশি সমালোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারাও।
জানা গেছে, গত ২ মে নগরীর কাটপট্টি’র আবাসিক হোটেল এ্যাথেনার একটি কক্ষে দুই পতিতা নারীকে নিয়ে অনৈতিক

কর্মে লিপ্ত থাকাবস্থায় ডিবির এসআই দেলোয়ার হোসেন তাকে হাতেনাতে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে আটক হওয়া দুই পতিতাকে ৭৭ ধারায় আদালতে চালান করলেও রহস্যজনকভাবে ছাড়া পেয়ে গেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা না নিয়েই ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাকে।
গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি সূত্র জানায়, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলে মোল্লা রবিউল ইসামকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওসমান গনি। এর সাথে সহযোগিতা করেছে সরকারি বরিশাল কলেজের ডিগবাজী খাওয়া ছাত্রলীগ সভাপতি আল মামুন ওরফে মান্টা মামুন ও রাজিব। তবে ডিবির খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসতে মোল্লা রবিউলের পকেট ঝাড়তে হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাছাড়া মামুন ইয়াবায় আসক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল’র মাদক সেবনের পার্টনার এমনকি তার কাছ থেকে ঠিকাদারী সুবিধা ভোগ করেছে বলেও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে মোল্লা রবিউলকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এসআই’র বক্তব্য ছিলো সরকারি কর্মকর্তা বিধায় সিনিয়র কর্মকর্তারা রবিউলকে সুযোগ দিয়েছে। তাছাড়া গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে সে জন্যই রবিউলকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে দায় এড়িয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে বিভাগীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেয়া হলেও আদৌ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত মে মাসের প্রথম দিকে মদ সহ সুমন নামের একজনকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় কালো রং এর একটি হাইএইস মাইক্রোবাসও জব্দ করেন তারা। কিন্তু ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায় মদের মুল মালিক। সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল ক্লাব থেকে বের হওয়া ওই মদের মালিক ছিলেন গনপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলামের। সিনিয়র এক কর্মকর্তার পরিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো ১০ বোতল মদ। কিন্তু যার মদ তিনি না ফাসলেও আটক হয়েছে মাইক্রোবাসে থাকা সুমন নামে এক ঠিকাদার। তবে পুলিশ বলছে মামলার তদন্তে ঘটনার সাথে অন্য কারোর সম্পৃক্ততা পেলে চার্জশীটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে। সব মিলিয়ে একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ড ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে গনপূর্ত বিভাগ।

সূত্রঃদৈনিক আজকের পরিবর্তন

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>