বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করলো দুই প্রকৌশলী!

জুন ২২ ২০১৭, ২৩:৫০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে বিসিক শিল্প নগরি প্রকল্প স্থাপনে অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রমান পাওয়ায় দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিসিকের প্রকল্প পরিচালকসহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ঢাকা বিসিক প্রধান কার্যালয়ের দুজন প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হল- বিসিকের প্রধান কার্যালয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম খান ও মো. বেলায়েত হোসেনকে গত ২০ জুন ঢাকা থেকে দুদক গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঢাকার ম্যজিষ্টিড আদালতে সোর্পদ করে। অপর চার জনকেও দুদক নজরদারিতে রেখেছে বলে জানাগেছে। এরা হলেন ঝালকাঠি বিসিক প্রকল্প পরিচালক অসীম কুমার ঘোষ, বিসিক প্রধান কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত দায়িত্বে ঝালকাঠি বিসিক প্রকল্প, মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, প্রকল্প ঠিকাদার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবগ্রাম ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মজিবুল হক আকন্দ ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইসলাম ব্রাদার্স এর ঠিকাদার মেয়র পুত্র মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার । ২০১৪ সালে ঝালকাঠিতে বিসিকের ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পের শুরুতেই প্রকল্প পরিচালক অসীম কুমার ঘোষ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের নামে ব্যাপক দূর্নীতি শুরু করেন। এ ভাবে তিনি বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিসিক প্রকল্প এলাকায় বালু দিয়ে পুকুর ভড়াটে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় বরিশাল দুদদকের সহকারি উপ-পরিচালক মো. আল আমিন বাদি হয়ে গত ১৯ জুন নলছিটি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন, অসীম কুমার ঘোষ, মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, মো. সাইফুল ইসলাম খান,

মো. বেলায়েত হোসেন, মো. মজিবুল হক আকন্দ ও মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার । বিসিক সূত্রে জানাযায়, ২০১৪ সালে নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঢাপড় এলাকায় ১১.৮ একর জমিতে প্রকল্পটি শুরু করা হয়। কিন্তু শুরুতেই প্রকল্পের স্থানে বালু ভড়াটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক দূর্নীতির আশ্রয় নেয় প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পের জায়গায় একটি ছোট পুকুর থাকলেও সেখানে ৪টি গভীর পুকুর ভড়াট দেখানো হয়। এই ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার সূত্র ধরে দুদক ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে। এরপর তদন্তের পাশাপাশি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনসহ প্রকল্প পরিচালককে বরিশাল দুদক কার্যালয়ে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্র জানায় বাস্তবে নির্মানাধীন প্রকল্পের স্থলে ৫০ ফিট ও ২০ ফিট চওড়া এবং ৫ ফিট গভীরতার একটি পুকুর থাকলেও সেখানে ৩শ ফিট ও ৩শ ফিট চওড়া এবং ২০ ফিট গভীরতার ৪টি পুকুর ভড়াট দেখানো হয়েছে। দুদকের মামলা সূত্রে জানাযায়, বিসিক প্রকল্প এলাকায় একটি পুকুরের স্থলে ৪টি পুকুরে বালু ভরাট দেখিয়ে আসামীরা যোগসাযশে ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারা ২৪ জুন ২০১৪ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত এই অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, বিশ্বাষ ভঙ্গ ও ১৯৪৭ সনের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বরিশাল দুদকের সহকারি উপপরিচালক মো. আল আমিন মুঠোফোনে জানায়, ঝালকাঠির বিসিক প্রকল্পের দূর্নীতির ঘটনায় দুদক ঢাকা কার্যালয় বিসিকের শীর্ষ দুই প্রকৌশলীকে আটক করেছে। বাকী ৪ আসামীদের ধরতে প্রচেষ্ঠা চলছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>