বিসিসি’র আন্দোলন কারীদের কাজে যোগদানের আহবান ,নাহলে কঠোর সিদ্বান্ত- মেয়র

এপ্রিল ০১ ২০১৭, ১৮:৫৩

স্টাফ রিপোর্টার
বকেয়া বেতনের দাবীতে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অস্থায়ী শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশণের (বিসিসি) মেয়র আহসান হাবিব কামাল। আজ রোববারের মধ্যে কাজে যোগদানের জন্য আন্দোলনকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায় ধর্মঘটি শ্রমিকদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ এবং স্থায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের হুমকি দিয়েছেন মেয়র কামাল। আজ শনিবার বিকালে মেয়র  আহসান হাবীব কামালের  কালুশাহ সড়কে তার বাসভভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে ধর্মঘটিদের প্রতি এ আহ্বান জানান। তার আগে শুক্রবার রাতে আন্দোলকারীরা বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পুরো বকেয়া পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগদান করবেন না। মেয়রের সাংবাদিক সম্মেলনে বিসিসির প্যানেল মেয়র সহ ৩৫ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এসব কাউন্সিলরা ঠিকাদারী বানিজ্যে মেয়র কামালের কাছ থেকে নানাভাবে সুবিধাভোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। মেয়র দাবী করেন, বিসিসির কতিপয় কর্মকর্তা তার কাছ থেকে অনৈতিক পদোন্নতীর সুবিধা না পেয়ে আন্দোলনের নামে নগরজীবনে দূর্ভোগে সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র কামাল বলেন, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ মাসের বেতন এবং ৩২ মাসের প্রফিডেন্ড ফান্ডের টাকা বকেয়া পড়েছে। তার মধ্যে ৩ মাসের বেতন এবং ২২ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ড বকেয়া সাবেক মেয়রের সময়ে। অস্থায়ী শ্রমিকদের বেতন বকেয়া ২ মাসের। আজ রোববার তিনি

নগর ভবনে গিয়ে তার সময়ের স্থায়ীদের ২ মাসের বেতন এবং অস্থায়ীদের ২ মাসের বেতন পরিশোধ করবেন। আগের মেয়রের সময়ের বকেয়ার দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন না। মেয়র কামাল ওই বেতন গ্রহন করে কাজে যোগদানের জন্য আন্দোলনকারদের প্রতি আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে কি করবেন জানতে চাওয়া হলে মেয়র কামাল বলেন, কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডে নতুন শ্রমিক নিয়োগ করে নগর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন। স্থায়ীদের বিরুদ্ধে চাকুরী বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হবে। আজ মেয়র নগর ভবনে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোন অপ্রীতিরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কি-না জানতে চাওয়া হলে মেয়র বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ অবহিত করা হয়েছে। নগর ভবনে নানা দূর্ণীতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মেয়র কামাল সব অস্বীকার করে আগের মতোই বলেন, নগর ভবনের সকল ব্যয় মেটাতে প্রতিবছর ৪০-৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন। রাজস্ব আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। এমনবস্থায় নগর ভবনে আর্থিক সংকটের স্থায়ী কোন সমাধান নেই। প্রসঙ্গত, বকেয়া বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দাবীতে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অস্থায়ী শ্রমিকরা গত ২৭ মার্চ থেকে কর্মবিরতী ও লাগাতার বিক্ষোভ করে আসছে। আন্দোলনকারীরা বলেন, অনিয়ম-দূর্ণীতিতে রাজস্ব আয়ের টাকা দিয়ে লুটপাট করে বিসিসিতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>