বিসিসি’র ২২ কাউন্সিলরের বকেয়া ট্যাক্স আড়াই লাখ টাকা!

আপডেট : April, 18, 2017, 6:56 am

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়রসহ ২২ কাউন্সিলরের কাছে আড়াই লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তাদের এ বিপুল পরিমাণের কর আদায়ে মাথাব্যথা নেই বিসিসির। বরং নগরবাসীর বর্ধিত কর আদায়ে উঠেপড়ে লেগেছে বিসিসি কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলরদের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণে পক্ষপাতিত্ব করছে কর বিভাগ। তবে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ট্যাক্স আদায়ে প্রথমে চিঠি পরে আইন অনুযায়ী মাল ক্রোকের নোটিশ করা হবে। কাউন্সিলর হোক আর নগরবাসীই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্যানেল মেয়র ও ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশার তিনটি হোল্ডিং নম্বর বকেয়া রয়েছে ১১ হাজার ৫৩ টাকা। একইভাবে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল হাসান মামুনের ২ হাজার ৭৬৩ টাকা, ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ ইউনুস মিয়ার ৪ হাজার ৪২১, ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন মাসুমের ১৫ হাজার ৮৫, ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ জাকির হোসেন জেলালের ৪ হাজার ৪৮২, ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গাজী আক্তারুজ্জামান হিরুর ২৩ হাজার ১০২, ২২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম তালুকদারের ২ হাজার ৭৬৩, ২৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরোজ আহম্মেদের ৩৮২, ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ১ হাজার ৯৮৫, ২৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মনিরুল ইসলামের ১ হাজার ৮২৬, ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খায়রুল মামুনের ৮১৯ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর জাহানারা বেগমের ৩ হাজার ৫৬৪ টাকা

বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাইনুল হকের নামে চারটি হোল্ডিং নাম্বারে ৬৭ হাজার ৯২৮, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আকবর হোসেনের দুইটি হোল্ডিং নাম্বারে ১৩ হাজার ২৬৪, ৮নং কাউন্সিলর সেলিম হাওলাদারের তিনটি হোল্ডিং নাম্বারে ৫০ হাজার ৮৪৫, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবিরের দুইটি হোল্ডিং নাম্বারে ৯ হাজার ৪০৯, ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গাজী নঈমূল ইসলাম লিটুর তিনটি হোল্ডিং নাম্বারে ৪০ হাজার ৮৪৬ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর কামরুন্নাহার রোজীর নামে দুইটি হোল্ডিং নাম্বারে ৬ হাজার ৬৪৬ টাকা বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলরদের হোল্ডিং ট্যাক্স নগরবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্সের ৩ থেকে ৪ গুণ কম।
কর বিভাগের ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে তাদের নিজেদের কর কমিয়ে রেখেছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কর বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কাউন্সিলরদের চাপের মুখে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে বরিশাল পৌরসভা করার সময়। এরপর ক্ষমতাসীন এ কাউন্সিলরদের ট্যাক্স বৃদ্ধি করা যায়নি। নগরীর ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম জাকির হোসেন জানান, নিজ নিজ দায়িত্বে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স দেয়া উচিত। নিজে সংশোধিত না হয়ে অন্যকে সংশোধন করা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, অধিকাংশ কাউন্সিলরের কাছেই হোল্ডিং বকেয়া রয়েছে। তাদের বকেয়া আদায়ের জন্য চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

সূত্রঃআলোকিত বাংলাদেশ

Facebook Comments