বেশি কথাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি

অক্টোবর ০৯ ২০১৭, ১৭:৪৮

‘ও যেসব মন্তব্য করছে, সেটা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। টস নিয়ে কোনো অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কথা বলতে পারে না। এটা দলের জন্য ভালো হচ্ছে না’—মুশফিকের রহিমের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই বলেছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

শুধু মুশফিক কেন, কথা তো বলছেন সবাই! দলের খেলোয়াড়, বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্তা, এমনকি স্বয়ং বিসিবি প্রধান—গত কয়েক দিনে মাঠের খেলার চেয়ে কথাই যেন বেশি হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে দুর্দান্ত জয়ের পর চট্টগ্রামে হারের পর থেকেই চলছে কথার পিঠে কথা। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আকস্মিক ব্যাটিং অর্ডারের অদলবদল নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে অনেক। সেদিন মুমিনুল হককে কেন চার নম্বরে নামানো হলো না? চারে তো মুশফিক নিজেও নামতে পারতেন? মুশফিক অবশ্য সোজাসাপ্টা জানিয়েছেন, ১২০ ওভার উইকেটকিপিং করে তাঁর পক্ষে চারে ব্যাট করা সম্ভব নয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মুশফিক কি তাহলে নিজের ভূমিকাগুলো পুনর্বিন্যাস করবেন? বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক তখন জানান, এখন সবকিছু যেমন চলছে, সেটা তাঁর একার সিদ্ধান্তে হচ্ছে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেভাবে চাইবে, সেভাবেই দলে থাকতে প্রস্তুত মুশফিক।
অধিনায়কের এ কথা শুনে পরদিন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান উল্টো মুশফিকেরই দায় দেখেছেন, ‘আমরা ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও কিপিং করবে কি না। এটাও জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও চারে ব্যাট করতে আগ্রহী কি না। কিন্তু ও তো নামেনি। ও তো ওর সিদ্ধান্তেই নেমেছে। তাহলে ওকে জিজ্ঞেস করতে হবে, টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত মানে কী?’ এমনকি মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাজমুল, ‘একটা কথা বলে রাখি, সমস্যাটা মুশফিকের। মাশরাফি অধিনায়কত্ব করে না? ও কখনো এমন সমস্যায় পড়েনি। সাকিব কখনো এমন সমস্যায় পড়বে না, লিখে দিতে পারি।’ বিশ্বের অন্য কোনো বোর্ড প্রধানকে এভাবে দলের ভেতরের বিষয় নিয়ে এত খোলামেলা বলতে শুনেছেন?
মুশফিকের যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে কিপিং করা হচ্ছে না, সেটা তখনই বোঝা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত কিপিং গ্লাভস জোড়া লিটন দাসকেই তুলে দিতে হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ককে। এখানেই ‘কথা’ শেষ নয়। পচেফস্ট্রুম

টেস্টে ৩৩৩ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থ বোলারদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন মুশফিক। কেন সেদিন বোলারদের প্রকাশ্যে ধমকেছেন, ব্লুমফন্টেইন টেস্টের আগে সেটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বোলারদের আরেক দফা শুনতে হয়েছে অধিনায়কের ঝাঁজাল মন্তব্য।
কিন্তু আগের সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনে। অপ্রত্যাশিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক রীতিমতো বোমাই ফাটান। টস জিতে কেন এই টেস্টেও ফিল্ডিং নিয়েছেন মুশফিক? এ প্রশ্নে অধিনায়কের উত্তর ছিল, ‘আমার তো মনে হচ্ছে টসে জেতাই ভুল হয়ে গেছে ভাই!’ অধিনায়ক হয়ে প্রথম এবং দ্বিতীয় সেশনের অনেকটা সময় মুশফিক ফিল্ডিং করেছেন বাউন্ডারিতে। কেন তিনি বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করেছেন, সেটির জবাবে বলেছেন, ‘কোচরা চেয়েছেন বাইরে ফিল্ডিং করি। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা বলবে, সেটাই তো করতে হবে।’ তবে নাজমুল হাসান আজ বললেন, ‘সে কোথায় ফিল্ডিং করবে, সে সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের ছিল না। সিদ্ধান্তটি ছিল তার ব্যক্তিগত। কেউ চাপিয়ে দেয়নি।’
সংবাদমাধ্যমের সামনে রাখঢাক না রেখেই মুশফিক যেসব মন্তব্য করেছেন, তা ভালোভাবে নিতে পারেনি বিসিবি। তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জনটা উঠেছে এ কারণে। তবে নাজমুলের কথায় মনে হলো মুশফিকের ওপর এখনই আস্থা হারাচ্ছেন না বিসিবি সভাপতি, ‘তাকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।’
মুশফিক অধিনায়ক বলেই তাঁর মন্তব্যগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। দলের অন্য খেলোয়াড়দের লাগামছাড়া মন্তব্যগুলো তাই কিছুটা ঢাকা পড়েছে। পচেফস্ট্রুম টেস্টের প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার রান-উৎসবের পরও সাব্বির রহমান বলেন, ‘ওরা যদি তিন দিন ব্যাট করে, বলতে পারবেন না কত হতো পারে। ১ হাজার, ৭০০ রান হতে পারে!’
পচেফস্ট্রুম টেস্টে বাজে বোলিংয়ের পর তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা খারাপ বোলিং করিনি। যদি খারাপই করতাম, এখানে ওরা ৬০০ রানও (প্রথম ইনিংসে) করতে পারত।’ সর্বশেষ ব্লুমফন্টেইন টেস্টে বাংলাদেশ যখন ফলো অন করছে, ইনিংস ব্যবধানে হারের চোখ রাঙানি, লিটন দাস তখন বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০০ রানও করতে পারি।’
শুধু খেলোয়াড়দের কেন, বিসিবির দায়িত্বশীল কর্তাদেরও অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য থেকে বিরত থাকাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বেশি কথাই যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>