বড় বেশি অভিমান ছিল রূপার

আগস্ট ৩১ ২০১৭, ২২:৫৫

‘ছেলে-মেয়েদের মধ্যে রূপা ছিল বেশি অভিমানী, তাই বুঝি সকলের আগে সে পৃথিবী থেকে চলে গেছে! বড় বেশি অভিমান ছিল ওর।’

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যার শিকার রূপা খাতুনের (২৭) শোকে কাতর মা হাসনা হেনা বললেন এমন কথা।

অদম্য মেধাবী রূপার অকাল মৃত্যুর শোক যেন পাথরের মত জেঁকে বসেছে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীর মধ্যে।

মেয়ের মৃত্যুতে অসুস্থ হয়ে পড়া রূপার মা শয্যাসয়ী হয়ে মাঝে মাঝেই বিলাপ করে বলছেন, মেয়ের অকাল মৃত্যুর সাথে যারা দায়ী তাদের শাস্তি তিনি যেন দেখে যেতে পারেন।

রূপার মামা কলেজ শিক্ষক শফিউল হক বাবলু জানান, রূপা বড় অভিমানী ছিল।তার ছিল দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মত ব্যাক্তিত্ব। শিক্ষায় ছিল সে অদম্য মেধাবী। নিয়মিত নামাজ ও কোরআন পড়তো।

তিনি বলেন, ভাই বোনের মধ্যে বেশি অভিমান থাকায় রূপাকে সবাই সমীহ করে চলতো। অভাবের কষাঘাত পায়ে ঠেলে রূপা তার ভাই বোনের শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন।মূলত রূপা খাতুনের হাত ধরেই তার ছোট বোন পপি নাটোরের সরকারি কলেজ থেকে স্মাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছোট ভাই উজ্জ্বল প্রামানিককে শিক্ষিত করে তুলতে তার বেতনের টাকা নিয়মিত তার হাতে দিতেন। শান্ত স্বভাবের মেয়ে রূপার অপ্রাপ্তি নিয়ে হতাশা ছিলনা। সে ছিল মনের দিক থেকে কোমল। পরিবারে সবাই রূপার অভিমানের কথা জানতো বলে তাকে বেশি আদর করতো।

রূপার বড় বোন জিয়াসমিন খাতুন ফুলেরা জানান, আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ছিল রূপার। স্বপ্ন

ছিল লেখাপড়া শেষ করে আইনজীবী হওয়ার।

তার মামী লাভলী খাতুন বলেন, ‘আইনজীবী হওয়ার পর মামার বাড়িতে আসবে এমন জিদ করে বসেছিল রূপা। কিন্তু নরপশুরা তার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। স্বপ্ন পুরনের আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় দেয়া হলো তাকে।’

ফুলেরা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রূপার সাথে তার শেষ কথা হয়। আমার অসুখের কথা শুনে বলেছিল, আপা আমি ছুটি পেলেই তোমাকে রাজশাহী হাসপাতালে নিয়ে যাব। মাকে ভাল ডাক্তার দেখাব। কিন্তু তা আর হলো না। এখন আমার মাকে ছোট ভাই-বোনকে দেখার মতো কেউ থাকল  না।’

রূপার ছোট বোন পপি খাতুন বলেন, ‘পড়ালেখা আর এক সঙ্গে চাকরির সুবাদে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বাইরের বন্ধু বান্ধবীদের সাথে তেমন মিশতাম না । রূপা সুন্দরী হওয়ায় অনেক বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল; কিন্তু ভাই বোনদের প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তা থেকে সে বিয়ে করেনি।’

গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রাখা হয়।

রাতে মধুপুর থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এরপর শনিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ওই দিনই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হয়। গত সোমবার রূপার বড় ভাই হাফিজুল একটি পত্রিকায় বেওয়ারিশ লাশ দাফনের সংবাদ দেখে মধুপুর থানায় এসে বোনের লাশ শনাক্ত করেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>