ভিশনে জামায়াত প্রসঙ্গ না থাকার ব্যাখ্যা দিলেন ফখরুল

মে ১৪ ২০১৭, ১৬:০২

রাষ্ট্র পরিচালনায় খালেদা জিয়ার ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০তে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ না থাকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালে জামায়াতের সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক হবে সেটা এই মুহুর্তে বলার অবকাশ নেই। সুতরাং এখানে জামায়াতের বিষয়টি উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।’

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব ভিশন-২০৩০ নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা বলেন ফখরুল। সেন্টার ফর ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল রিসার্চ স্টাডিজ নামে একটি সংগঠন এই আলোচনার আয়োজন করে।

গত বুধবার খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ চলবে জানালেও যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো কথা ছিল না। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে এ নিয়েও কোনো কথা ছিল না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ জন্য বিএনপির সমালোচনা করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম এ জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়া আসলে কী চেতনা বাস্তবায়ন করবেন এটা জনগণ বুঝে গেছে।

ভিশন ২০৩০তে জামায়াত প্রসঙ্গ উল্লেখ না থাকার ব্যাখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘যখন জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট গঠন করা হয় তখন এই বলে ঐক্য

হয়েছিলো যে, আওয়ামী লীগ সরকার একনায়ক, স্বৈরাচারীভাবে দেশ পরিচালনায় রয়েছে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির পাশে জামায়াত থাকবে। এর বাইরে অন্য কিছু না। তাদের (জামায়াত) সঙ্গে যে জোট এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক।’

চিন্তা ও কাজের ক্ষেত্রে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বলে দাবি করেন ফখরুল। বলেন, ‘ভিশন ২০৩০ এর বড় প্রমাণ।’

আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপরিচালনার দুটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ যখন চলমান, তখন খালেদা জিয়া ঘোষণা করেন ভিশন- ২০৩০। খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের পর পর আওয়ামী লীগ একে নকল ও অন্তঃসারশূন্য বলে সমালোচনা করে।

ক্ষমতাসীন দলের এই প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে বিএনপি নেতা ফখরুল বলেন, ‘তারা বলছেন এটা অন্তঃসারশুন্য, ফাঁপা বেলুন। কেউ আবার বলছেন, বিএনপি তাদের অনুকরণ করেছে। কিন্তু বিএনপির দর্শন অনুকরণ করে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি পরিবর্তন করেছে।’

বিএনপি আওয়ামী লীগের ভিশন অনুকরণ করেনি দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যেভাবেই হোক তারা (আওয়ামী লীগ) রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে। তাদের কাছ থেকে আমরা গঠনমূলক ভুমিকা প্রত্যাশা করি।

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ মাহবুব উল্লাহ, সাবেক সচিব ইসমাঈল জবিউল্লাহ প্রমুখ।

সূত্রঃ ঢাকা টাইমস

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>