ভোলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : April, 29, 2017, 10:12 pm

ভয়াল ২৯ এপ্রিল স্মরণে আজ শনিবার সকালে ভোলা শহরের কে-জাহান মার্কেটের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রী হোসনেয়ারা বেগম চিনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তৃতা করেন ভোলা জেলার নাগরিক কমিটির সভাপতি প্রবীন আইনজীবি মো: শাহজাহান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভোলা জেলার সভানেত্রী হোসনেয়ারা বেগম, মৎস্য সংগঠনের নেতা মো: নুরুল ইসলাম, মোকাম্মেল হক মিলন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপক লিগ্যাল ও প্রশিক্ষণ হালিমা পারভিন, আঙ্গিনা’র নির্বাহী পরিচালক ও মহিলা নেত্রী বিলকিস জাহান মুনমুন, কোস্ট ট্রাস্টের আঞ্চলিক টিম লিডার রাশিদা বেগম, সমন্বয়ক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ গত ৩৬ বছরেও সংস্কার করা হয়নি।

অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে বক্তারা আরো বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড় ’ম্যারি এন’ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে। লন্ডভন্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পুরো উপকূল।

লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারিদিকে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছিল। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এ আঘাত। পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল সেই ধ্বংসলীলা দেখে। কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক।

চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২৫০ কি:মি: (১৫৫ মাইল/ঘন্টা)। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ফুট) উঁচু জলোচ্ছাস হয়েছিল। ঝড়ের তাণ্ডবে সরকারী হিসাবে উপকূলে ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়। আর ২০ লাখ গবাদি পাশু মারা যায়। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

ভোলা ও মনপুরা দ্বীপের জমি এবং মানুষের সুরক্ষায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পর্যাপ্ত বাজেটের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

মানববন্ধনে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, জেলে, কৃষক, নারী নেত্রী, ছাত্র, কিশোরী, শিক্ষক, সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

Facebook Comments