ভোলায় টাকা না দিলে নম্বর কম দেওয়ার হুমকি

মার্চ ০৪ ২০১৭, ১৪:৪২

ভোলায় ২০১৭ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফরম পূরণের সঙ্গে একবার ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি নেওয়া হলেও আবারও ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি দাবি করা হয়েছে। এ ফির পরিমাণ বিষয়প্রতি ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা।
সরেজমিন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষা শেষ না হতেই ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি দাবি করছে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকেরা। ধার্যকৃত ফি না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া, এমনকি ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে যারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাদের ফরম পূরণ করতে শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৮৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি ফি ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা। এর বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাঁরা আরও বলেন, মানবিক বিভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ফরম পূরণে ১ হাজার ৬৯৫ টাকা এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বোর্ড। আর বিজ্ঞান বিভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৮৫ ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৬৯৫ ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৭৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হার ব্যবহারিক পরীক্ষা ও কেন্দ্র ফিসহ সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ব্যবহারিক পরীক্ষা সাতটি এবং মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় চারটি পরীক্ষা রয়েছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আজিম বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো টাকা নেওয়ার বৈধতা নেই। যদি কোনো বিদ্যালয় অনিয়ম করে তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
লালমোহন উপজেলার রায়চাঁদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ও অভিভাবকেরা বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে ফরম পূরণে এ বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। বলা হচ্ছে, এ টাকার মধ্যে ৩০০০ টাকা নেওয়া হয়েছে কোচিং ফি। কিন্তু কোচিং হয়নি। বিদায় ফি (মিলাদ) নেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকা। প্রবেশপত্র ফি বাবদ নেওয়া হয়েছে ৮০০

টাকা। এখন ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন এসব টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘কোন ছাত্রের কাছে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি চাওয়া হয়েছে তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন।’ পাঠালে কী ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ছাত্ররা বলে, ফি কমানোর আবেদন করেও লাভ হয়নি। একই অভিযোগ লালমোহন উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয় থেকেও পাওয়া গেছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলার পদ্মমনষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবহারিক ফি নেন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক। আমাকে কিছু জানান না।’
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুল আরিফ বলেন, ‘লালমোহন পৌরসভার বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ধার্যের অভিযোগ পেয়েছি। যাতে বিদ্যালয়গুলো কোনো ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি না নিতে পারে সে ব্যবস্থা নেব।’
বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল ব্যবহারিক ফি নেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তাঁর বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি দিতে হবে বলে অভিযোগ করেছে। নইলে ছাত্রদের কম নম্বর দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। তবে বোরহানউদ্দিন উপজেলার ইউএনও মো. আ. কুদদূস বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা সদর উপজেলার এ রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয় ফরম পূরণে ৫০০০ টাকা, প্রবেশপত্র ৫০০ টাকা, বিদায় ফি ৫০০ টাকা নিয়েছে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিষয়প্রতি ৩০০ টাকা ধার্য করেছে। তবে এ রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাফিয়া খানম ছাত্রদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যাংকেরহাট কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনও। তবে টবগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, তাঁরা বিষয়প্রতি ১০০ টাকা ধার্য করেছেন।
সদর উপজেলার ইউএনও মৃধা মো. মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি ফির বাইরে যেন শিক্ষকেরা একটি টাকাও না নেন, সে ব্যবস্থা নেবেন।
ছাত্ররা জানায়, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিষয়প্রতি ৩০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ. আলিম বলেন, ‘আমরা প্রতি বিষয়ে ৫০ টাকা ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ধরেছি।’
তজুমদ্দিন উপজেলার ইউএনও মো. জালালউদ্দিন বলেন, ‘আমি অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেব।’

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>