ভোলায় দরিদ্র কর্মজীবী নারীদের বেতন তুলতে ঘুষ

অক্টোবর ০৯ ২০১৭, ২৩:১১

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধিঃ  ভোলার বোরহানউদ্দিনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিসে বেতন তুলতে হলে পদে পদে ঘুষ দিতে হয় আরইআরএমপি-২প্রকল্পের দরিদ্র কর্মজীবি মহিলাদের। আর চাকুরী হারানোর ভয়ে মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে পারেন না অসহায় দরিদ্র কর্মজীবি নারীরা। তবে তাদের রয়েছে চাপা ক্ষোভ। এ ঘটনায়এলাকায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ। জানাযায়, সরকার জাতিসংঘের ঘোষিত মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল-১ অর্জনে দেশের দারিদ্র সীমা ৫০ ভাগে নামিয়ে আনা ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সরকার যৌথ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষনাবেক্ষণ প্রকল্প (আরইআরএমপি)-২ হাতে নেয়। প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীন দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাভলম্বী  করতে ২০১৩-২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতি ইউনিয়নে দৈনিক মুজরীতে ১০ জন দরিদ্র নারীর সড়ক রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সরকার নিয়োগ দেন।দৈনিক ১৫০ টাকা মুজরীতে মাসে জন প্রতি ৪ হাজার ৬শ টাকা বেতন দেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে সরকার কর্মজীবির নারীর ব্যাংকে হিসাব নম্বরে ১৫শ টাকা করে জমা রাখেন। যাতে প্রকল্পের শেষে এ অসহায় নারী এককালীন একটি বড় অংকের সঞ্চয় নিতে পারে। কিন্তু বোরহানউদ্দিন এলজিইডি অফিসে ঘটছে উল্টো । কর্মকর্তাদের দূর্নীতির কারণে প্রশ্ন বিদ্ধ হচ্ছে সরকারের এ প্রকল্প। সূত্র জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১০ করে প্রায় ৯০ জন নারী কর্মী নিয়োগ দেন স্থানীয় প্রকৌশল অফিস ।আর এ নারী কর্মীদের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে এ অফিসের কমিউনিটি অর্গানাইজার আঃ মান্নান । তার সাথে রয়েছে সহযোগী জাহাঙ্গীর হোসেন। অভিযোগে জানাযায়, এ দরিদ্র কর্মজীবি নারীদের প্রতিমাসে বেতন হয় না। ৩/৪ মাস অন্তর এরা বেতন ভাতা তোলেন। একসাথে ৩ মাসের ১৩ হাজার ৫শ টাকা আসে। গত রবিবার সোনালী ব্যাংকে মহিলারা চেক দিয়ে টাকা তুলতে গেলে 

ইউনিয়ন প্রতি ১০ জন থেকে ৪ হাজার টাকা তুলে নেন মান্নান । চাকুরীর হারানোর ভয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে কর্মজীবি দরিদ্র নারীরা জানায়, মন্নান স্যারের নির্দেশে জাহাঙ্গীর আমাদের কাছ থেকে জন প্রতি ৪শ টাকা করে ইউনিয়নের ১০ জনের থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। না দিলে প্রকৌশলী চাকুরী রাখবেন না। ওই নারীরা জানান, ৯ ইউনিয়ন থেকে এভাবে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া টাকা তোলার আগে জাহাঙ্গীরকে নগদ ১শ টাকা করে দিতে হয়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে  ওই ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ করেন, শুধু এ মাসে নয় । গত ২ বছর ধরে বেতন আসলে মন্নান এভাবে টাকা নেয়। না দিলে চাকুরীচ্যুতের ভয় দেখায়। টাকা নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী আগে থেকে জানেন । এদিকে এলজিইডি অফিসে চাকুরী না করলেও তথাকতিথ সুপারভাইজার নামধারী জাহাঙ্গীর জানায়, তিনি সুপারভাইজারের কোন চাকুরী করেন না। তাকে এখানে নিয়োগ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তিনি বলেন মহিলারা টাকা তুলতে পারে না আমি তুলে দেই। তখন কেউ ৫০ বা ১শ টাকা দেয়। কমিউনিটি অর্গানাইজার আঃ মান্নান টাকা তোলার কথা স্বীকার করে বলেন,রবিবার ৯ ইউনিয়ন নয় ৮ ইউনিয়ন টাকা নিয়েছে। স্ট্যাম্প ও সোনালী ব্যাংকে টিটি করে টাকা আনতে ১ হাজার টাকা খরচ আছে। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে খরচ আছে। এ জন্য একটা খরচ তোলেন। জাহাঙ্গীর অফিসের কোন স্টাফ নয়। সে বহিরাগত। ইঞ্জিনিয়ার স্যার জানেন তাকে কিভাবে রেখেছেন।  উপজেলা প্রকৌশলী সফিউল আজম বলেন,টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন জাহাঙ্গীর সুপার ভাইজার বলে দাবী  করেন। প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেবেন। যখন ভুক্তভোগী মহিলাদের ভিডিও বক্তব্য আছে বললে, তিনি বলেন বিকালে অফিসে আসেন।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>