ভোলায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

এপ্রিল ১৭ ২০১৭, ১৮:২৫

ভোলা জেলায় ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১৫ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

জেলার ৭উপজেলায় ৮২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। ভুট্রা চাষে পরিশ্রম কম, লাভজনক ও সরকারি প্রণোদনা প্রদানের ফলে চাষিরা ভুট্টা চাষে আগ্রী হয়ে উঠছে। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ভুট্টার ব্যাপক আবাদ হওয়ায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে করে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় তালুকদার বাসস’কে বলেন, জেলায় কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী গড়ে তুলতে ২ হাজার কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

প্রতি কৃষককে ২ কেজি বীজ, ২০ কেজি বিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ১০০টি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় এবছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষকরা জানান, সাধারণত কার্তিক অগ্রাহায়ন মাসে মাঠের ধান তোলার পরই জমি পরিচর্যা করা হয়। পৌষের দিকে লাগানো হয় ভুট্টার বীজ। বৈশাখ মাসের শেষ দিকে ফসল ঘরে তোলা হয়। এখন জেলায় ভুট্টার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর আবাদ বাড়ছে।

বিভিন্ন ফাস্টফুড ও চাইনিজে ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া পোল্ট্রি খাবার হিসাবেও ভুট্টা ব্যবহার করা হয়। ভুট্টা চাষে কম পরিশ্রম, বিগত বছর ভুট্টার ফলন ও লাভ ভালো হওয়ায় অনেক কৃষকই এবার ভুট্রা চাষ করছেন।

সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের চরছিফলী গ্রামের কৃষক মো: ইব্রাহীম ৫০ শতাংশ জমিতে ভুট্টার

আবাদ করেছেন। নিজ জমি সরকারিভাবে বীজ ও সার পাওয়াতে এবার তার খরচ অনেকটাই কম হয়েছে। তিনি বলেন, এবছরই তিনি প্রথম ভুট্টার চাষ করেছেন।

ভুট্টা চাষে লাভ বেশি হয় বলে তিনি এতে আকৃষ্ট হয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন রোগ-বালাইর প্রভাব নেই তার ফসলে। আশা করছেন অধিক ফলনের মাধ্যমে লাভবান হবেন।
একই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আব্দুল মালেক বাসস’কে জানান, তিনি ২০ শতাংশ জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। সরকারি প্রণোদনা পাওয়াতে তিনি প্রচন্ড খুশি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনা বীজ থেকে হেক্টর প্রতি ৭ থেকে ৮ মে. টন ভুট্টা উৎপাদন সম্ভব। আর সাধারণ বীজ থেকে আড়াই থেকে ৩ মে. টন উৎপাদন হয়। তাই উচ্চফলনশীল এসব বীজ থেকে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন। সামনের দিনে এর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।

উপ-সহকারী কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় তালুকদার আরো জানান, গত বছর জেলায় ৪৮১ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছে ২৮শ’ ৩৮ মে. টন ভুট্রা। আর চলতি মৌসুমে গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ জমিতে আবাদ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এবার উৎপাদনও প্রায় দ্বিগুণ হবে।

মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিমুজ্জামান বলেন, এবছর এখন পর্যন্ত মাঠে ভুট্টার অবস্থান অত্যন্ত ভালো রয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন ইউনিয়ন পরিষদে কৃষকদের সভা করা হয়। সভায় বিভিন্ন রোগ-বালাই, বীজ রোপন, পরিচর্য়া ইত্যাদি বিষয়ের সঠিক নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া গ্রামে পরামর্শ কেন্দ্রে সব ধরনের পরামর্শ সেবা দেয়া হয়ে থাকে। -বাসস

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>