ভোলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ব্যক্তির নামে রেকর্ড

মার্চ ২৯ ২০১৭, ১৮:৩৭

সরকারি এক টুকরো খাস জমির ওপর স্থাপিত ভোলার লালমোহন উপজেলার ‘কর্তারহাট আলিমিয়া দাখিল মাদ্রাসা’। পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সেখানে এখন পড়ালেখা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চারদিকে ঝোপঝাপ। ঝোপের মাঝে মাদ্রাসা। ভাঙা-চোরা একটি টিনের ঘরে ক্লাসরুম। ওই রুমেই গাদাগাদি করে চার শতাধিক শিক্ষার্থী বসে ক্লাস করছে। ক্লাসরুমের সঙ্গেই টয়লেট। টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো পাঠদান কক্ষ ও শিক্ষক মিলনায়তনের মধ্যে। নেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথক কোনো কমনরুমের ব্যবস্থা। এ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্মল নিঃশ্বাস ফেলা দায়।

স্থানীয় সুত্র জানায়, লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট এলাকার মাওলানা এবায়েদুর রহমান সাড়ে ১২ গণ্ডা জমি দান করে ১৯৮১ সালে ওই জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। দান করা জমির কাগজপত্র দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন এবং একাডেমিক স্বীকৃতিও নেওয়া হয়। পরে ১৯৮৫ সালে একই পরিবারের ৪-৫ জনকে বিভিন্ন পদে চাকরি দিয়ে একপ্রকার ঝড়ের গতিতে এমপিওভুক্ত করে নেন তিনি। কিন্তু এমপিওভুক্তির পরই এবায়েদুর রহমান ভোল পাল্টিয়ে মাদ্রাসার নামে দান করা জমি পুনরায় নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়ে যান। যার কারণে দীর্ঘ ৩৬ বছরেও এ মাদ্রাসার অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। গড়ে ওঠেনি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ। বর্তমানে

খাস জমির ওপর গড়ে ওঠা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে সরকারি বিল ভাতা উত্তোলন করছেন ১৫ জন শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারী। যার মধ্যে চারজনই এবায়েদুর রহমানের নিজ পরিবারের সদস্য। বর্তমানে মাদ্রাসায় বিভিন্ন শ্রেণিতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ কবির হোসেন বলেন, আমার নিজের কাছেই আশ্চার্য লাগছে যে, আমি এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। মাদ্রাসার নামে কোনো জমি নেই। খাস জমির ওপর কিভাবে মাদ্রাসা চলে। কিভাবে সরকারি বিল ভাতা হয় তাও ভেবে পাচ্ছিনা।

তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কয়েকবার পদক্ষেপ নিলেও মাদ্রাসার নামে জমি না থাকায় ভবন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে স্থানীয় আবতাব উল্লাহ নামের আরেক ব্যক্তি ৮ শতাংশ জমি মাদ্রাসার কাছে বিক্রি করেও দখল দিচ্ছেন না। অথচ দাতা সদস্য হিসেবে ওই দুজনই রয়েছেন পরিচালনা পর্ষদে।

লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম আজ বুধবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে জানান, মাদ্রাসার কিছু জমি নিয়ে মাদ্রাসার দাতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। মাদ্রাসার সামান্য কিছু জমি সরকারি খাস জমির ওপর পরলেও ভবন করার মত জমি মাদ্রাসায় রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা জরিপ করছেন। উপজেলায় একটি ভবনের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>