ভোলায় ৫৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে

আপডেট : April, 19, 2017, 4:04 pm

ভোলা পৌরসভায় ৫৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক, ড্রেন, ব্রিজসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ‘উপকূলীয় শহর পরিবেশগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্যাকেজে এই কার্যক্রম হচ্ছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এসব উন্নয়ন কাজের মধ্যে ২টি সাইক্লোন সেল্টার, ১৩টি সড়ক নির্মাণ, ২১টি ড্রেন ও ৩টি ব্রিজ নির্মাণ রয়েছে।

পৌর মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে সারা দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পৌরসভায় যে পরিমাণ উন্নয়ন কাজ হয়েছে, পৌরসভার প্রায় শত বছরের ইতিহাসে তা হয়নি। চলমান উন্নয়ন কাজসহ এখানে মোট ১৩৭ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হবে বলে মেয়র জানান।

পৌরসভা সূত্র জানায়, বর্তমান চলমান প্রকল্পের মধ্যে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যায়ে তৃতীয় তলা বিশিষ্ট ২টি স্কুল-কাম সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১টি হচ্ছে চরজংলা এলাকার মাষ্টার রফিকুল ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন সেল্টার। অপরটি বাস টার্মিনাল এলাকায় উলুম আফরাফিয়া মাদ্রাসা সাইক্লোন সেল্টার। এর মাধ্যমে এখনাকার মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া ৮কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ১০টি রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে। ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৯৯ কিলোমিটারের ৩টি রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। এসব রাস্তার মধ্যে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসর্টামিনাল থেকে ফরাজি বাড়ি পর্যন্ত একটি রাস্তা। শিশু হাসপাতাল থেকে বিশ্ব রোড পর্যন্ত। চরজংলা রোড (ভকেশনাল থেকে রুপশী সিনেমা হলের পিছন পর্যন্ত)।

ভোলা কলেজের পিছনের সড়ক। শিল্পকলা একাডেমির পাশের রাস্তা। গাজীপুর রোডের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়ির সড়ক। করুনা কান্তি সড়ক। আবহাওয়া অফিস থেকে স্টেডিয়ামের পেছন দিকের রাস্তা। ব্র্যাক অফিস থেকে গরুরহাট পর্যন্ত রাস্তাসহ মোট ১৩টি রাস্তার কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে সমাপ্ত হবে।

অন্যদিকে

ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭শ’ ৪৯ মিটার দীর্ঘ। অন্য প্যাকেজে আরো ৪ হাজার ৮শ’ ৯ মিটারের ৯টা ড্রেনের কাজ হচ্ছে ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে। আর ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার ৬টা ড্রেন হচ্ছে ৫ হাজার ৫শ’ ৯২ মিটার। ড্রেনের ৩টি প্যাকেজে মোট ১৫ হাজার ২শ’ মিটার দীর্ঘ ২১ টি ড্রেন হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এর মাধ্য ভোলা কলেজের পেছন দিয়ে কাঠালীর ভেতরে প্রায় ১২শ’ ৫৪ মিটার লম্বা একটি ড্রেন। প্রফেসর সিরাজুল ইসলামের বাসা থেকে খাদ্যগুদাম হয়ে পাওয়ার হাউজ পর্যন্ত ৯শ’ ৭৭মিটার ড্রেন।

একইভাবে আজাহার মিয়ার মাঠ থেকে চরচংলার খাল পর্যন্ত ফিসারিস অফিসের পাশ দিয়ে আরেকটি ড্রেন। বরিশাইল্লা দালান থেকে তিন খাম্বা পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে ড্রেন। শতদল বিকাশ হয়ে সদর রোড দিয়ে ভোলা খাল পর্যন্ত একটি ড্রেন। আদর্শ একাডেমি পার্শ্ব দিয়ে ঢ়ারি বাড়ির পিছন পর্যন্ত একটি ড্রেন, কালীবাড়ি রোডের ড্রেনসহ মোট ২১টি ড্রেনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়। তাই আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে শহরবাসী।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিমউদ্দিন আরজু বলেন, ভোলা পৌরসভা উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি একটা সমস্যা। তাই পরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নত জীবন ব্যবস্থার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখানে গুরুত্ব বহন করে। ফলে পৌর এলাকায় ফুটপাতসহ ১৫ কিলোমিটার ড্রেন হচ্ছে। এসব ড্রেন মূল সড়কের পাশে ফুটপাতসহ নির্মিত হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় পরিবেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এর বাইরে আরো প্রায় ১৭টি ড্রেনের মান উন্নয়ন করা হবে।

পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান আরো বলেন, সমগ্র পৌরসভাকে মাস্টার প্লানের আওতায় এনে ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২০ সালে ভোলা পৌরসভার শতবছর পূর্তি হবে। আর এই শতবছরে ভোলা পৌরসভা হবে দেশের মধ্যে মডেল পৌরসভা। সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই বর্তমান পরিষদ কাজ করছে বলে তিনি জানান। -বাসস

Facebook Comments