‘মামলার বাদীই মিতুর হত্যাকারী’

জুন ০৫ ২০১৭, ০০:০১

মামলার বাদীই চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম মিতু’র হত্যাকারী বলে বরখাস্তকৃত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের দিকে ইঙ্গিত করেছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। পুলিশও বিষয়টি জানে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় মিতু হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে  এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই অভিযোগ তুলেন।

.

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন

বাবুল আক্তারের শ্বশুর ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মামলার বাদী বাবুল আক্তারই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনটি বিষয়ে তা স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত: বাবুল আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। দ্বিতীয়ত: বাবুল আক্তার সেই বরখাস্তের আদেশটি মেনে লিখিতভাবে মেনে নিয়েছে। তৃতীয়ত: তাকে যদি জোর করে সেখানে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, তাহলে বাবুল আক্তার আদালতের আশ্রয় নিতে পারতো। সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু সে আদালতে যায়নি। সে সবকিছু মেনে নিয়েছে। এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে, এই হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তার জড়িত। বিষয়টি পুলিশও জানে। পুলিশের উচিত তাকে গ্রেফতার করা । এখন তাদের সঙ্গে কোনও সমঝোতা হয়েছে কিনা তা আমি বলতে পারবো না।’

 

স্ত্রী হওয়ার পরও মিতুকে কেন বাবুল আক্তার হত্যা করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বাবুল আক্তারের একাধিক পরকীয়ার ঘটনা রয়েছে। কক্সবাজারে এক বিদেশি এনজিও নারীকর্মীর সঙ্গে তার পরকীয়া ছিল। ঝিনাইদহের এক উপ-পরিদর্শকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া ছিল। এছাড়াও আরও একজন উপ-পরিদর্শকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়া ছিল। আমরা তিনটার কথাই জানি। এসব কথা মিতু জানতো বলেই তাকে হত্যা করেছে বাবুল।’

তিনি বলেন, ‘এক বছরেও মামলার মূল আসামি কালু ও মুসাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা কোথায়? পুলিশের

সঙ্গে বাবুলের যা ঘটেছে, তাতে আমাদের অনেক কিছুই সন্দেহ হচ্ছে। এসব ঘটনা স্পষ্ট। বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হোক। তাহলে সব পরিষ্কার হবে। সে (বাবুল) দোষী কি দোষী নয়, সেটাও পুলিশের বলা উচিত। যদি সে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত না হয়, তাহলে তার চাকরি পুলিশ ফেরত দিক। সে স্বাভাবিকভাবে চাকরি করুক। আর যদি দোষী হয়, তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হোক। তবে, আমি চাই, তাড়াহুড়ো করে যেন, এই মামলার চার্জশিট দেওয়া না হয়।’

বাবুল আক্তারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ আছে কিনা? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনও কথা হয় না। গত ২৬ এপ্রিল আমরা মিতুর নামে বাসায় দিনব্যাপী দোয়ার আয়োজন করেছিলাম, তখন মিতুর দুই সন্তানকে খবর দিয়েছিলাম। গাড়িতে করে বাবুল আক্তার তাদের আমাদের বাসায় পাঠিয়ে ছিল। সারাদিন থেকে আবার চলে গেছে বাবুলের কাছে। তবে বাবুল আসেনি। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই।’

এদিকে মামলার অগ্রগতির বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কোনও কিছু জানানো হয় না বলেও অভিযোগ করেন মোশাররফ হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ায়ের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ জুন রাতে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকা থেকে এহতেশামুল হক ভোলাকে ও মনিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট ৩২ বোর ও ৭.৬৫ বোরের দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>