মামলা উঠিয়ে নিতে গৃহবধুকে মারধোর

ফেব্রুয়ারি ২৭ ২০১৭, ২১:৪৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে দায়ের করা একটি মামলা উঠিয়ে নিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তার লোকজন কর্তৃক মারধোরের শিকার হয়েছেন তাসলিমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধু। শনিবার সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়ন পরিষদে প্রকাশ্যে মিমাংসার নামে ওই গৃহবধুকে মারধোর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রোববার রাতে নির্যাতিতা তাসলিমা বেগম স্বশরীরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে সংবাদকর্মীদের জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে তার স্বামী মজিবর প্যাদা তার এবং তিন সন্তানদের ভড়ন-পোষন করেন না। এনিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। পরে ২০১৬ সালের ১৬ মে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে স্বামীকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা নং-২৯২/১৬। আদালত ওই মামলায় তাসলিমার স্বামী মজিবর প্যাদার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন।

পুলিশ ওই মামলায় আসামী মজিবরকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে নিয়ে আসলে। ছোটবিঘাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আলতাব হাওলাদার স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে দেবে পুলিশকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মজিবরকে থানা হাজত থেকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। বিষয়টি মিমাংসার জন্য তাসলিমা একাধিকবার চেয়ারম্যান আলতাব হাওলাদারের কাছে ধর্না ধরলে চেয়ারম্যান এক পর্যায় ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকালে শালিশ করা হবে বলে তাসলিমাকে আশ্বস্ত করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় তাসলিমা ছোটাবিঘাই ইউনিয়ন পরিষদে হাঝির হয়।

এসময় চেয়ারম্যান ও তার ¯েœহধন্য ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আজিজ প্যাদা ও সাধারন সম্পাদক আলাল মহরী তাসলিমাকে অলিখিত রোয়েদাদ নামায় স্বাক্ষর দিতে বলেন। এতে তাসলিমা অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন হাওলাদার তাকে মারধোরের নির্দেশ দেন। এসময় পাশের একটি হোটেল থেকে লাঠি নিয়ে এসে আওয়ামীলীগের নেতা আজিজ প্যাদা আলাল মহরী তাসলিমাকে বেধম প্রহার করেন। এসময় স্থানীয় কয়েক যুবক মারধোরের বিষয়টি তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ধারন করলে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তা ছিনিয়ে নেন তার ¯েœহধন্যরা।

পরে এ ঘটনার বিচারের দাবীতে তাসলিমা শনিবার বিকেল থেকে রবিবার সন্ধা পর্যন্ত পুলিশ কর্তাদের কাছে ধর্না ধরলেও পুলিশ বিষয়টি কালক্ষেপন করে এড়িয়ে জান বলে দাবী করেন নির্যাতিতা ওই নারী।

মারধোরের ঘটনায় অভিযুক্ত আলাল মহরী জানান, তাসলিমা স্থানীয় শালিসি মানতে চায়না। আদালতে দায়ের করা মামলাটি উঠানোর জন্য তাসলিমা ও তার স্বামীকে রোয়েদাদ নামায় স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছে। তার স্বামী মজিবর আমাদের কথায় স্বাক্ষর দিলেও তাসলিমা স্বাক্ষর দিতে রাজি হয়নি, তাই তাকে স্থানীয় শালিশগন একটু গাল-মন্দ করেছেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন হাওলাদারের কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি মারধোরের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কিছু না বলে ফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন। ##

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>