মুশফিকের বাবার বিরুদ্ধে ৯ম শ্রেণির ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : May, 16, 2017, 11:01 am

বগুড়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাসুম ফের‌দৌস মাশুক (১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শ‌নিবার দিবাগত রা‌তে শহরতলীর মাটিডালী হাজিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাশুক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড এমদাদুল হক এমদাদের ছোট ছেলে এবং এসওএস হ্যারম্যান মেইনার স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ।

জানা যায়, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জেলা বেকারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমদাদের ছেলে মাসুক ফেরদৌস বারপুর এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল ও কলেজে নবম শ্রেণীতে পড়ত।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকার ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের ছেলে মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র নাইম তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর তাদের বাড়ির পাশে মাসুককে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে এই হত্যার নেপথ্যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারা’র সম্পর্ক রয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক।

এমদাদুল হকের অভিযোগ, মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদের সাথে পুরনো শত্রুতার জের ধরেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ক্লাস নাইনে পড়া মাশুকের খুন পরিকল্পিত। এমন দাবী বাবা

এমদাদুল হকের।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে আটটায় পাশের বাসায় থাকা ছেলে নাইম হাসান বগুড়ার বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর মাথায় ব্যাপক আঘাতসহ বাড়ির পাশেই খুঁজে পাওয়া যায় তাকে।’

মাশুকের বাবা এমদাদ তার ছেলের খুনের জন্য মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ ও তার ভাই মেজহাব উল হামিদ সহ স্থানীয় কাউন্সিলরকে দায়ী করছেন।

এমদাদুল হক বলেন, ‘এরা ক্ষমতার দাপটে কয়েক দিন আগে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দু’সদস্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। মসজিদের ভিতরে মারধর করে। সদর থানা পুলিশ দু’পক্ষকে ডেকে স্বাক্ষর নিয়েছিল। এরপরও তারা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল। এর সাত দিনের মাথায় আমার সন্তানকে হত্যা করা হল।’

মাটিডালি হাই স্কুলের গভর্নিং বডির নির্বাচন নিয়েই ঝামেলা হয়েছে বলে জানান এমদাদ। তার দাবী, পরিকল্পনা করেই নাইমের সাহায্য নিয়ে খুনের মত ন্যাকারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নাইমকে গ্রেফতার করা হলেই আসল দোষী খুঁজে পাওয়া যাবে, এমন আশা করছেন ভুক্তভোগী পিতা অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক।

সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এই ঘটনার পর থেকে প্রতিবেশী নাইম গা ঢাকা দিয়েছে। আপাতত তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নাইমের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারা বলেন, এমদাদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তিনিও এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সঠিক তদন্ত দাবি করেন।

Facebook Comments