মৃত্যুর খুব কাছ থেকে সুস্থ্য হয়ে ফিরলো বাবলু

এপ্রিল ১৬ ২০১৭, ০৯:১৩

লিটন বাশারঃমানুষের জীবন ও মৃত্যুর স্বন্ধিক্ষন বলতে যা বুঝায় তেমনি একটি মুহুর্তকে পিছনে ঠেলেই মহান আল্লাহ তালার অসীম কৃপায় জীবন নিয়ে ফিরলো সাংবাদিক বেলায়েত বাবলু। প্রিয় সহকর্মী, পরিবারের সদস্য , স্বজন – প্রিয়জন আর শুভাকাংঙ্খীদের ভালবাসা ও চিকিৎসকদের প্রানন্তকর চেষ্টায় বাবলু সম্পূর্ন শংকা মুক্ত এবং সুস্থ্য হয়ে ১২ এপ্রিল ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিউট থেকে মুক্ত হয়েছেন । হার্ট এ্যাটাকের পর অস্ত্রপচার করে রিং বসানো এখন এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একটি সহজ পন্থা। এখানে মৃত্যুর ঝুকি নেই বললেই চলে তবুও যে দুই –চার জন দূভাগা রোগীর মৃত্যু ঘটে তার মধ্যেই নাম লিখাতে চলছিল সাংবাদিক বেলায়েত বাবলু।
ঢাকার শেরে বাংলা নগর হৃদরোগ ইনস্টিউটে ১০ এপ্রিল বাবলুর এনজিও গ্রাম করে হার্টের অবস্থা নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেক আগে থেকেই বাবলু তার অপারেশনের সময় আমি যেন পাশে থাকি এমন আকুতি করছিল। বাবলুর বিনয়ী কন্ঠের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলাম না। ঐ দিন লঞ্চ যোগে হাজির হলাম রাজধানীর বুকে। আগের রাতের খবর অনুযায়ী সকাল ১০টার দিকে বাবলুকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার কথা। সে অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরে পৌছার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্ত সকাল ৮টার কিছুক্ষন পরই বাবলুর মোবাইল থেকে কল এলো, তার স্ত্রী রুমানা উৎকন্ঠা ভরা কন্ঠে জানালো ‘ ওর হার্টে একটি ব্লক পাওয়া গেছে, কত দামের রিং পড়ানো হবে, তা জানতে চাইছে’! সরকারী হাসপাতালের এ এক চরম অব্যবস্থাপনা রোগীকে মৃত্যুর মুখে রেখে দরদাম ঠিক করা হয়। সে যাক আমি আমাদের সিনিয়র সাংবাদিক তৌফিক মারুফ ভাইকে ফোন করলাম। তিনি তখন হাসপাতালের কাছাকাছি পৌছে গেছেন। তবুও ফোনে চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করলেন।

কিন্ত রোমানা পরবর্তী ফোনে জানালো –‘ হাসপাতালের লোকেরা তাকে বলছে ৮০ হাজার টাকা দামের রিং বসানো হচ্ছে বাবলুর হার্টে , এক লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের টা পড়ালে ভাল হতো।’ রোমানার মন খারাপ লক্ষ্য করলাম। ওকে বললাম ‘ দেখ ডাক্তার যদি ৪০ হাজার টাকার রিং বসিয়ে বলে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের রিং বসানো হয়েছে ! সেখানে তোমার- আমার  কি করার আছে?’ তার চেয়ে বরং বিষয়টি মারুফ ভাই আর চিকিৎসকদের উপরেই ছেড়ে দাও। রোমানার কথা শুনে আবার তা তাৎক্ষনিক আমি মারুফ ভাইকে ফোন করে জানাই। এরমাঝে প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, চ্যানেল আই’র বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান রনি ভাই ও সাংবাদিক স্বপন খন্দকার সহ কয়েক জনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবলুর চিকিৎসার অবস্থা নিয়ে। বার বার ফোনের কারনে আমার হাসাপাতালে রওয়ানা দিতে আরো বিলম্ব ঘটলো। রোমানা সর্বশেষ ফোনে জানালো ডাক্তাররা প্রথমে একটি ব্লকের কথা বললেও এখন দুইটি রিং বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। রোমানার কন্ঠে চিকিৎসকদের ভূমিকা

নিয়ে সংশয়।

চিকিৎসার নামে এ পুকুর চুরি নাকি সাগর চুরিকেও হার মানায়! আমি রোমানাকে আশ^স্থ করার চেষ্টা করি। বললাম ‘ ৪০ হাজার টাকা দামের রিং বসিয়ে ১২৫ হাজার টাকা হয়তো চিকিৎসকরা নিতে পারেন। কিন্ত একটি রিং বসিয়ে দু’টি রিং-এর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। ততক্ষনে হাসপাতালে পৌছে গেছেন তৌফিক মারুফ ভাই, চ্যানেল আই’র বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান রনি ভাই, প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী এসএম জাকির হোসেন ও স্বপন খন্দকার। আমিও দীর্ঘ যানজটের রাস্তা অতিক্রম করে পৌছে গেলাম হাসপাতালে।

কিছুক্ষন পর দৈনিক বর্তমানের সহকারী সম্পাদক আবু জাফর সাইফুদ্দিন এসে হাজির হলো। আমরা শুনলাম বাবলুর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার শ্বাসরুদ্ধকর গল্প। বাবলুর হার্টে একটি ব্লক পাওয়ার পর চিকিৎসক এক লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের সবচেয়ে লম্বা রিং বসিয়ে দেন। ব্লকটির দৈর্ঘ্য বেশী হওয়ার কারনে ২০ হাজার টাকা দামের একটি বেলুন সংযোজন করে দেন। চিকিৎসকদের ধারনা ছিল যেহেতু আশে-পাশের সব চ্যানেল গুলোই ভাল রয়েছে সেহেতু ব্লক হওয়া চ্যানেলটি স্বাভাবিক ভাবেই কাজ করবে। সফল অস্ত্রপচার শেষে বাবলুকে অপারেশন টেবিল থেকে নামানোর পালা। হঠাৎ করেই মনিটরে চোখ গেল চিকিৎসকের। দেখলেন বসানো রিং এর নীচে রক্ত জমাট বেধে গেছে। দিশেহারা চিকিৎসকরা দ্রুত রক্ত অপসারন করে সেখানে ৫০ হাজার টাকা দামের ছোট্ট একটি রিং বসিয়ে দেন। চিকিৎসকরা জানান- এই জমাট বাধা রক্ত মুহুর্তেই রোগীর মাথায় গিয়ে ব্রেন ষ্টক করে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়। বাবলুর ভাগ্য ভাল ছিল তাই চিকিৎসকদের চোখ ফাকি দিয়ে রক্ত মস্তিকে যেতে পারেনি।

বাবলুর এই চিকিৎসার জন্য যারা টাকা পয়সা দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি যে লোকটি দেবদূতের ন্যায় কাজ করেছেন তিনি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিবিএ নেতা পটুয়াখালীর কৃতি সন্তান সেলিম মোল্লা। এ মানুষটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। মিডিয়া বান্ধব সেলিম মোল্লা যে কতটা পরউপকারী তা চোখে না দেখে বিশ্বাস করা মুশকিল। এখনো এদেশের মাটিতে দুয়েক জন সেলিম মোল্লা আছেন বলেই বাবলুদের চিকিৎসা সরকারী হাসপাতালে করানো সম্ভব হয়। তা না হলে নচিকেতার গানের মত এফআরসিএস ডিগ্রি ঝুলানো ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা পাওয়া এত সহজ হতো না। কারন সরকারী হাসপাতালের পরিবেশ এই ডাক্তার বাবুরাই করেছেন শেষ। হাসপাতাল না থাকলে জনগন নাসিং হোমে যাবে অবশেষ, সেখানে জবাই হবে, উপরি কামাই হবে, মানুষের সেবার কি দরকার!’ ও ডাক্তার, ও ডাক্তার, ডাক্তার! বাচানোর ক্ষমতা তো তোমারই হাতে। তুমি যদি মারো তবে কোথা যাই, অসহায় মানুষের তুমিই তো সব কিছু- করজোরে নিবেদন করছি তাই। তোমার গৃহিনী যে গয়না পড়েন দেখেছো কি তাতে কত রক্ত, তোমার ছেলের চোখে দেখেছো কি কত ঘৃনা অব্যক্ত। তোমারও অসুখ হবে তোমারই দেখানো পথে তোমাকেই দেখে যদি কোন ডাক্তার।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>