মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মনপুরা

জুলাই ০৩ ২০১৭, ২৩:১৬

ভোলা প্রতিনিধিঃ মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে ছোট হয়ে আসছে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানচিত্র। মেঘনার তীব্র স্রোতে চর্তুদিক থেকে ভাঙছে মনপুরা।

গত ৫ বছরে মেঘনার ভাঙনে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, ঘর বাড়ি হারিয়ে মানুষ এখন নিঃস্ব। সহায় সম্বল ভিটে মাটি হারিয়ে মানুষ বেড়ি বাঁধের ঢালে কিংবা নতুন জেগে উঠা চরে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে।

মেঘনার ভাঙনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান, গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, মন্দিরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মেঘনার অব্যাহত ভাঙনের ফলে ১নং মনপুরা ইউনিয়নের উত্তর মাথা দিয়ে তীব্র স্রোতে মূল ভুখণ্ড ভেঙে কেবল ভিতরে ঢুকছে। মেঘনার ভাঙনের ফলে মনপুরার সবচেয়ে বড় বাজার রামনেওয়াজ বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সম্পুর্ণ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিটে মাটি হারিয়ে পথে বসতে শুরু করেছে। মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিড়পাড়, মাছুয়াখালি, কুলাগাজী তালুক, কাচারির ডগিসহ ৫টি ওয়ার্ড সম্পুর্ণ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং কাউয়ারটেক, সীতাকুণ্ড, ঈশ্বরগঞ্জ মৌজার অধিকাংশ গ্রাম নদীর গর্ভে চলে গেছে। মনপুরা ইউনিয়নের ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

হাজির হাট ইউনিয়নও ভাঙনের কবলে। হাজির হাট ইউনিয়নের নাইবের হাট

বাজার সম্পুর্ণ নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া পূর্ব সোনারচর ভেঙে কেবলই ভিতরে ঢুকছে। চরজ্ঞান, দাসের হাট প্রায় সম্পুর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিন সাকুচিয়া মেঘনার ভাঙনে কেবলই ছোট হয়ে যাচ্ছে।

এভাবে ভাঙতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে মনপুরা সম্পুর্ন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে মূল ভুখণ্ড থেকে মনপুরার মানচিত্র। দ্রুত নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য দাবি জানাচ্ছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ।

রামনেওয়াজ বাজার ব্যাবসায়ী কিংকর চন্দ্র দাস, অরুন, অহিদ ডাক্তার বলেন, ইতিপূর্বে বাজারটি কয়েকবার স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক ব্যাবসায়ী দেনার দায়ে পথে বসেছেন। এভাবে ভাঙতে থাকলে ব্যাবসায়ীরা কোথায় যাবে? দ্রত মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসেস শেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, মনপুরা পর্যটনের অপার সম্ভবনায় স্থান। এখানকার মানুষ প্রতিদিন মেঘনার ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে শুরু করেছে। মেঘনার ভাঙন রোধে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি মনপুরার রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকা ১৯২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে পাশ করিয়েছেন। বর্ষা শেষে ব্লকের কাজ শুরু হবে। ভাঙন রোধে উপমন্ত্রী  প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>