মেহেন্দীগঞ্জে দুই সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

জুন ১৪ ২০১৭, ২১:৫৩

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে আঞ্চলিক দৈনিকের দুই সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগের উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সাকিল বেপারীর নেতৃত্বে একদল ক্যাডার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে দুই সাংবাদিককে মারধর করে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলার শিকার বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক মতবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি সঞ্জয় কুমার গুহ জানান, বুধবার সকালে তিনি ও সহকর্মী আঞ্চলিক দৈনিক আজকের বার্তার স্থানীয় প্রতিনিধি মনির দেওয়ান উপজেলা চত্ত্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় আকস্মিক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সাকিল বেপারীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন ক্যাডার তাদের উপর হামলা চালায়। তারা এলোপাথাড়ি তাদের মারধর করে তার ও মনিরের সাথে থাকা মুঠোফোন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

সঞ্জয় অভিযোগ করেন, কিছুদিন পূর্বে মেহেন্দীগঞ্জের ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সেখানে বরিশাল থেকে প্রকাশিত ১২টি আঞ্চলিক দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীরা চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল বারী মনিরের কাছে সাংবাদিকদের মিষ্টি খেতে ২৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান মনির ওই টাকা আত্মসাৎ করেন।

এরপর সাংবাদিকরা চেয়ারম্যান মনিরের বিরুদ্ধে ১২টি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে। এর জের ধরে মনির

চেয়ারম্যানের নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতা সাকিল তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন সঞ্জয় গুহ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার কথা বলেন নির্যাতনের শিকার দুই সাংবাদিক মনির দেওয়ান ও সঞ্জয় গুহ।
এর আগেও ছাত্রলীগ নেতা সাকিল বেপারী মেহেন্দীগঞ্জের একাধিক সাংবাদিকের উপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে বলে সঞ্জয় অভিযোগ করেন। কিন্তু তার বাবা খোরশেদ আলম ভুলু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হওয়ায় কেউ সাকিলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ কিংবা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সাকিল বেপারীর  মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে সাকিলের বাবা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলুর দাবি- ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় তার ছেলে সাকিল সেখানে ছিলো না। এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেনি। মনির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওই দুই সাংবাদিককে কিছু উচ্ছৃংখল ছেলে ধাক্কাধাক্কি করেছে বলে দাবি করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাকিলের বাবা ভুলু।

মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি মো. আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের সাথে ছাত্রলীগের কি একটা ঘটনা ঘটেছে, তা আবার মিটেও গেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন ওসি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>