মেয়াদ না বাড়লে মুখ থুবরে পরার শঙ্কায় বরিশালে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশনের কাজ

জুন ০৭ ২০১৭, ১৬:৩৯

পুরোনো ও জটিল ভূমি রেকর্ডপত্রকে ডিজিটাল পদ্বতিতে সংরক্ষনের কাজ চলছে বরিশালে। যারমাধ্যমে ভূমি অফিসের সেবা যুগোপযোগী করে জনগনের দোরগোড়ায় সহজে পৌছে দেয়া হবে। কিন্তু মোট কাজের অর্ধভাগ শেষ হতে না হতেই প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার সময় চলে আসায় মুখ থবরে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশনের কাজে।তাই বরিশাল জেলায় এ কাজের মেয়াদকাল আরো বাড়ানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যানুযায়ী, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ: বিদ্যমান মৌজা ম্যাপস অ্যান্ড খতিয়ানসমূহের কম্পিউটারাইজেশন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যার আওতায় আওতায় ভূমি জরিপ পদ্ধতিতে আইসিটি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রেকডরুমের খতিয়ান ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করার কাজ শুরু হয়। সারাদেশের ন্যায় এ কাজ বরিশালেও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত বরিশাল জেলায় ভূমি রেকর্ডপত্রকে ৩৩ ভাগ ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। ফলে বাকী রয়েছে পুরোনো রেকর্ডপত্রসহ বেশিরভাগই। কিন্তু আর ১ মাস পরে প্রকল্পের মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাবে। এরফলে ভূমি রেকর্ডের একটি বড় অংশ ডিজিটাইলেজসন থেকে বাদ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বরিশালের রেকডরুম শাখা সূত্রে জানাগেছে, ডিজিটাল করার উদ্যোগের ফলে শত বছরের সি.এস, আর.এস, এস.এ রেকর্ডসহ ভূমি সংক্রান্ত সকল নথি ও বালাম বই সংরক্ষিত হচ্ছে। যা হয়ে গেলে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে যে কেউ অনলাইনে ভুমি সংক্রান্ত তথ্য, সেবা ও রেকর্ডের কাগজপত্র ও ম্যাপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিগত দুই বছর যাবৎ চলছে বরিশালে রেকর্ড ডিজিটাল করার কাজ। একইসাথে বিভিন্ন ম্যাপ প্রিন্ট করে সেবাগ্রহিতাকে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। একারনে আধুনিক প্রিন্ট মেশিনও আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩১ জন তরুন আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে

৩ লক্ষ ৭০ হাজারের অধিক খতিয়ান ডিজিটাল করার কাজ সমাপ্ত করলেও এখনও বাকী রয়েছে ৬ লাখ ৮৩ হাজারের মতো খতিয়ান ডিজিটাল করার কাজ। এ বছর জুনের মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও এখনও দুই তৃতীয়াংশ খতিয়ান ডিজিটালাইজডকরনের কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। রেকর্ডরুম শাখার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও জেলা প্রশাসনের সহাকারী কমিশনার মাহমুদা আক্তার জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে বরিশালে ডিজিটাল পদ্বতিতে বিদ্যমান ভূমির রেকর্ড, খতিয়ান সংরক্ষন করা হচ্ছে। ফলে এসব ডকুমেন্ট নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি ভূমি মালিকরা সহজে, সল্প সময়ে, কম খরচে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পাবেন। সংরক্ষিত ১০ লক্ষ খতিয়ানের এর মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ এন্ট্রি ও আর্কাইভ করা হয়েছে। যদি প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়ানো হয় তবে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবী প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়লে যতটুকু ডিজিটাল করা করা হয়েছে তাও কোন কাজে আসবেনা। আর এর ফলে ডিজিটাল সেবা ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার উদ্দেশ্যও মুখ থুবরে পড়বে। রেকর্ড ডিজিটালকরনে নিয়েজিত তরুনরা জানান, সারাদিন কাজ করেও বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেটের সল্প গতির কারনে অনেক সময়ই কাজ বাধা গ্রস্থ হয়। তবে এ পর্যায়ে কাজের যে গতিশীলতা রয়েছে তাতে মেয়াদকাল একবার বাড়ালেই এর কাজ শেষ হয়ে যাবে। অপরদিকে রেকর্ড ডিজিটাল করা ছাড়াও বরিশাল জেলার সদর ও গৌরনদী উপজেলায় চলছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনলাইনেই নামজারি সহ সকল ভূমি সংক্রান্ত সেবা ডিজিটালকরনের কাজ। এসব কাজ সমাপ্ত হলে খুব সহজেই জনগন এসব সেবা দেশের যে কোন স্থান থেকেই পাবে বলে জািনয়েছেন বরিশাল সদরের সহকারীর কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হুসেইন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>