‘মোরা’য় ২ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার

আপডেট : June, 1, 2017, 12:34 am

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় প্রাথমিক হিসাবে ২ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৫ জন মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

ঘূর্ণিঝড়ের হানায় ছয়জন নিহত এবং ৬১ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়। খবর বাসস’র।

বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভারপ্রাপ্ত সচিব গোলাম মোস্তফা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গোলাম মোস্তফা জানান, কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ১৩ উপজেলা ও রাঙ্গামাটি জেলার ১০ উপজেলা ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’য় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সংখ্যা ১৬টি উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ফেনী, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও রাঙ্গামাটি।

গোলাম মোস্তফা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ৩৯ হাজার ৫৯৯টি ঘরবাড়ি আংশিক এবং ১৯হাজার ৯২৯ টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের সময় তিন হাজার ১৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৯ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়।

তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় কবলিত ১৬ জেলায় চালের রিজার্ভ মজুদ ছিল ১ হাজার ২২১ টন। ঘূর্ণিঝড় উপলক্ষে আরো ১ হাজার ৭০০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব জেলায় নগদ টাকা রিজার্ভ ছিল ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ঘূর্ণিঝড় উপলক্ষে আরো ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। জরুরি হিসেবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ৩০০ বান ঢেউটিন ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে তিনি অবহিত করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত সকল ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে উল্লেখ করে গোলাম মোস্তফা আরও জানান, মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সিপিপি, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের ইতিবাচক তৎপরতার কারণে এবছর জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে।

এ সময় অতিরিক্ত সচিব ফায়জুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments