‘মোরা’ জোয়ারে এলে ক্ষতি বেশি!

আপডেট : May, 29, 2017, 5:46 pm

নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে অবস্থান করলেও আজ সোমবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ‘মোরা’। কাল মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টির চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কয়েক দিন ধরে এই সময় দেশের উপকূলীয় এলাকায় জোয়ার শুরু হচ্ছে। তাই জোয়ারের সময় ‘মোরা’ আঘাত করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদেরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ‘মোরা’র প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরিশাল, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী,  পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

দক্ষিণের জেলা বরগুনায় রোববার রাত তিনটার দিকে জোয়ার শুরু হয়। পানি বাড়তে থাকে সকাল আটটা পর্যন্ত। জোয়ারে ২ দশমিক ৮৫ মিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পায় বলে জানায় জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
আজ ভোলায় জোয়ার শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে। জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য এদিক-সেদিক হলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল, না-হয় বঙ্গোপসাগর-মেঘনা নদীর মোহনার ওপর

দিয়ে ‘মোরা’ বাংলাদেশের স্থলভাগে পেরিয়ে যাবে। এ সময় সাগর ও স্থলভাগে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আমানত উল্লাহ খান বলেন, ‘আজ সকালের দিকে মনে হচ্ছিল, “মোরা” হয়তো মিয়ানমারের দিকে চলে যাবে। কিন্তু এখন এটি বাংলাদেশের দিকে আসছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে না গেলে এটি মেঘনা নদীর ওপর দিয়ে যাবে। জোয়ার থাকলে এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সতর্কাবস্থা উন্নত হওয়ায় মানুষের প্রাণহানি কম হতে পারে।’

জোয়ারের সময় ‘মোরা’ বেশি ভয়ংকর হতে পারে বলে মন্তব্য আবহাওয়াবিদদের। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে ঘূর্ণিঝড়টি যদি অবিরাম বৃষ্টি ঝরতে থাকে, তাহলে এটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। যেমনটি ২০১৩ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি ‘ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের’ অবস্থা হয়েছিল। মহাসেন বঙ্গোপসাগরে পাঁচ দিনে যে শক্তি অর্জন করেছিল, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে তা ক্ষয় হয়ে যায়। ফলে ওই বছর ১৭ মে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রমের সময় দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মোরা’ উপকূলে আঘাতের সময় যদি জোয়ার থাকে তাহলে জলোচ্ছ্বাস বেশি হবে। এমনটি হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

Facebook Comments