ময়লার ভাগাড়ে পরিনত নগরী!

মার্চ ৩০ ২০১৭, ১৮:০৭

বকেয়া বেতনের দাবিতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়মিত ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট ও লাগাতার কর্মবিরতি চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে।

 

বেতন-ভাতার আশ্বাস না পেয়ে প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও (৩০ মার্চ) সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে কর্পোরেশন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট পালন করছেন। শাখাগুলোর চেয়ারটেবিল খালিই পড়ে রয়েছে।

টানা চারদিনের ধর্মঘটের কারণে কর্পোরেশনের প্রতিটি সেকটরে স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোনো কাজ চলছে না কর, পানি, বিদ্যুৎ, হাট-বাজার, লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসহ কোনো শাখায়। কর্মবিরতির জন্য কর্পোরেশন থেকে নাগরিকরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এদিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেয়ায় ময়লা জমে নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলো যেনো ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে। চারদিন ধরে ময়লা ফেলে রাখায় জনতাকে নাক চেপে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। বিরূপ প্রভাব ফেলছে ব্যবসায়ীদের বিকিকিনিতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত চার দিনে কোন ময়লার গাড়ি, ভ্যান কিংবা পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজে আসেননি। ফলে রাস্তার পাশে নির্ধারিত স্থানগুলোতে বসতবাড়ির ময়লা ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়ক ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে।

আন্দোলনরত পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. হোসেন ঢালী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী

আমাদের বেতন ৭ হাজার টাকা। সেখানে দেয়া হয় ৫ হাজার টাকা। তাও আবার ৫ মাস ধরে বকেয়া। কতো দিন আর বেতন ছাড়া দেনার দায় মাথায় নিয়ে কাজ করা যায়!

আন্দোলনকারীরা জানান, ৫ মাসের বকেয়া বেতন ও ৩২ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ড না দেয়া পর্যন্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫৪২ জন নিয়মিত ও ৩ মাসের বকেয়া বেতন দেয়া না পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার অনিয়মিত (দৈনিক মজুরি ভিত্তিক) কর্মচারীরা সোমবার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী অ্যাসেসর কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এবারে কোন আশ্বাস নয়, দাবির বাস্তবায়ন হলেই তারা আন্দোলন ও কর্ম বিরতি প্রত্যাহার করে নেবেন। নতুবা এই অবস্থা চলমান থাকবে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, তিনি এসে বকেয়া ৪ মাসের বেতন দিয়েছেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কেবল ১ মাসের বেতন বকেয়া ছিল। কর্পোরেশনের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গেছে। এখন ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেতন দিতে হলে সময়তো দিতে হবে। কর আদায় করতে পারলেই বেতন দেয়া যেতো। তাই বলে সময় না দিয়ে কর্ম বিরতিতে যাওয়াটা অযৌক্তিক মনে হয় এই কর্মকর্তার কাছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>