‘যতদিন ইচ্ছা খেলবে মাশরাফি’- বিসিবি

আপডেট : July, 12, 2017, 10:21 am

স্পোর্টস ডেস্কঃ ক’দিন ধরেই মাশরাফি মুর্তজাকে নিয়ে সরগরম দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটের পর এবার নাকি ওয়ানডে থেকেও তাকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। ২ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের একটি মন্তব্যকে ঘিরেই জল্পনা-কল্পনা শুরু। এর মধ্যে কয়েকটি অনলাইন বিসিবি সভাপতির ওই মন্তব্যে রঙ চড়িয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে মাশরাফিকে ছুড়ে ফেলা হবে বলেও রায় দিয়ে দেয়। তবে গতকাল এসব বিতর্কে পানি ঢেলে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। মাশরাফি যতদিন ইচ্ছা বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলবেন বলেও জানিয়ে দেন বিসিবি বস। তার মতে, জাতীয় দলে এখনও মাশরাফির বিকল্প তৈরি হয়নি।

এই বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে একটি সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেছেন, ‘কোনো সমালোচনাতেই আমি কান দিই না। পারফরম্যান্স ঠিক থাকলে আমি খেলে যাব। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের কথা বললে এখানে ফিটনেসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ফর্মও ভালো থাকতে হবে। এ দুটি ঠিক থাকলে কেন আমি ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে চাইব না?’ সবকিছু মিলিয়ে মাশরাফি ও বিসিবি যেন মুখোমুখি অবস্থানে। তবে এসব বিতর্ক যেন আর ডালপালা না ছড়ায় সে জন্যই গত বৃহস্পতিবার মাশরাফির সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। সেখানেই এসব বিতর্কে মাশরাফিকে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন নাজমুল হাসান। এমনকি ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য দল গোছাতেও বলেছেন মাশরাফিকে। গতকাল সংবাদমাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিসিবি সভাপতি। গতকাল বিসিবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগের সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি, ‘সেদিন আমি যেটা বলেছি, সেটা পরিষ্কার। আপনারা তো পুরোটা দেখান না (টিভিতে)। একটা অংশ দেখান, এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। সেখানে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারতের এমএস ধোনির উদাহরণ টেনে যে, ধোনি ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলবে না দেখে এখন থেকেই ভারত নতুন অধিনায়ক এনেছে। আমাদের সে রকম পরিকল্পনা আছে কি-না। তখন আমি বলেছিলাম, এটা যে চিন্তা-ভাবনায় আছে, এর বড় উদাহরণই তো টি২০। পরের বিশ্বকাপের কথা ভেবে যেটা আমরা করেছি। কিন্তু সেটার সঙ্গে ওয়ানডের কোনো সম্পর্কই নেই। ওয়ানডে নিয়ে,

মাশরাফির যাওয়া কিংবা না-যাওয়া নিয়ে সেদিন কোনো কথাই হয়নি। কিন্তু বিষয়টি এমনভাবে প্রচার হচ্ছে, যেন মাশরাফিকে এখনই ওয়ানডে থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, নতুন অধিনায়ক খোঁজা হচ্ছে। অথচ এগুলো নিয়ে কোনো আলাপই হয়নি। আর আলোচনার সুযোগই নেই।’

এরপরই নাজমুল হাসান জানিয়ে দেন, অধিনায়ক ও পারফরমার হিসেবে বাংলাদেশ দলে মাশরাফির বিকল্প নেই, ‘এখানে দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, মাশরাফি কেবল একজন খেলোয়াড়ই নন, অধিনায়কও বটে। তার এ দায়িত্বটা সে যেভাবে সম্পন্ন করে যাচ্ছে এবং করে আসছে, বাংলাদেশে তার বিকল্প পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ মুহূর্তে তার ভূমিকা পালনের জন্য বিকল্প কোনো খেলোয়াড় আমাদের কাছে নেই। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি তার পারফরম্যান্সের কথা ধরেন, আমাদের যতজন পেস বোলার আছে তাদের মধ্যে তার পারফরম্যান্সও কিন্তু অনেক ভালো।’ বোর্ড সভাপতির মতে, ভবিষ্যতের চিন্তা সব সময়ই থাকে, এটা সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, ‘আমাদের মাথায় সব সময় চিন্তা থাকে যে, সাকিব চলে গেলে কী হবে, মুশফিক না থাকলে কী হবে। এই চিন্তা তো থাকবেই। এর মানে এই নয় যে, মাশরাফিকে অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। অভিজ্ঞদের নিয়ে ভাবছি, এর মানে কখনোই এটা নয় যে, তাদের বাদ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এগুলো তার জন্য অস্বস্তিকর, আমাদের জন্যও।’

মাশরাফির ভবিষ্যতের চিন্তা তার ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, মাশরাফি যতদিন খেলতে পারবে ততদিন বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ সে শুধু একজন খেলোয়াড়ই নয়, একজন অধিনায়কও। তার মতো অধিনায়ক বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন।’ মাশরাফিকে নিয়ে এসব প্রশ্ন ওঠায় বেশ অবাকও হয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘এ ধরনের প্রশ্ন এখন ওঠা উচিতই না। সামনে আমাদের অনেক খেলা আছে। বিকল্প খুঁজে না পাওয়ার আগেই যদি একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে এসব প্রশ্ন তোলা হয়, তাহলে তার মানসিক অবস্থাটা কী হয়! তার কথা চিন্তা করে আমার নিজের ভেতরেও একটা অস্বস্তি অনুভূত হয়। আমি যেটাই করি, আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলি।’

Facebook Comments