যা থাকছে খালেদার ভিশন ২০৩০ তে

মে ১০ ২০১৭, ১৩:৪৪

আগামী নির্বাচনে সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল না দিতে দল গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে পূর্বঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’র রূপরেখা তৈরি করছে দলটি। ক্ষমতায় গেলে ২০৩০ সাল লক্ষ্য ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিএনপির কী করবে তার রূপকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। ‘ভিশন-২০৩০-এ কী চমক থাকছে তা নিয়ে অনেকের মাঝেই কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলে আসছেন, রাজনীতিতে নতুন ধারা ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থাকবে ‘ভিশন-২০৩০-এ। তাদের এমন বক্তব্যে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার।

বুধবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ তুলে ধরবেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রূপরেখায় যা যা থাকছে

রূপরেখায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র ঠিক রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার সংস্কার ও সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা; ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সুনীতি, সুশাসন ও সুসরকারের সমন্বয় ঘটানো; গণভোট ফিরিয়ে আনা; নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মানবাধিকার কমিশনসহ সাংবিধানিক ও আধা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা; উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত আইন করা; ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে একটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার এবং প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে নেওয়ার জন্য বিএনপির পরিকল্পনায় বিস্তারিত থাকবে।

এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন খাতওয়ারি পরিকল্পনাও থাকবে। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণ ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে এই রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

যারা ছিলেন রূপরেখা তৈরিতে

দলের একাধিক সূত্র

জানিয়েছে, নতুন এই ভিশন তৈরির জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তারা হলেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত নন, এমন একজন সাবেক অধ্যাপকের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ শীর্ষক রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এটি নিয়ে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়।স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় তা চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী মাহবুব উল্লাহ ও সাবেক আমলা ইসমাঈল জবিউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিরা রূপরেখা তৈরির কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন,চেয়ারপারসন ‘ভিশন ২০৩০’ শিরোনামে সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দিয়েছিলেন। এবার তা বিস্তারিত আকারে তৈরি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এটির ঘোষণা আসতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত না।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ বলেন, ‘এই রূপরেখার ভিত্তিতে নির্বাচনের ইশতেহার দেওয়া হবে।’

‘ভিশন ২০৩০’ এবং সহায়ক সরকারের রূপরেখা একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে কি না এমন প্রশ্নে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন একজন  নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ভিশন ২০৩০ এর প্রস্তাবনাই তৈরি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সহায়ক সরকারের রূপরেখার ঘোষণা এখনই হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। তারপরও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পাল্টালেও পাল্টাতে পারে।’

গত বছরের ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলে সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এ ভিশন’ ২০৩০ এর লক্ষ্যে বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা দেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় গেলে নতুন এই ফর্মূলায় রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেছিলেন তিনি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>