যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়: ট্রাম্প

মে ২৩ ২০১৭, ১১:৫১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মুসলিমদের সঙ্গে নয়। এই যুদ্ধ হচ্ছে ভালো এবং মন্দের মধ্যে।

রবিবার বিকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং আব্দুল আজিজ কনভেনশন সেন্টারে আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প এ কথা বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ৫৬ আরব ও মুসলিম দেশের নেতারা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই লড়াই বিভিন্ন ধর্ম, গোষ্ঠী বা সভ্যতার নয়। এই যুদ্ধ নৃশংস অপরাধীদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের জীবন নিশ্চিহ্ন করে। সব ধর্মের ভালো মানুষ যারা জীবন রক্ষা করতে চায় তাদের হত্যা করতে চায় এসব অপরাধীরা। এটা ভালো ও মন্দের মধ্যে লড়াই।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এর মানে হচ্ছে সত্যিকার অর্থে ইসলামি জঙ্গিবাদ ও ইসলামি সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা। এর মানে হচ্ছে নিরাপরাধ মুসলিমদের হত্যা, নারীদের ওপর নিপীড়ন, ইহুদিদের হত্যা ও খ্রিস্টানদের গলাকেটে হত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু শান্তির পথ এখানেই রয়েছে, এই প্রাচীন ও পবিত্র মাটিতে।’

ইসলামকে বিশ্বের অন্যতম ধর্ম বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতার প্রতি সন্ত্রাসবাদকে সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে উৎখাতের আহ্বান

জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের ধর্মীয় স্থানগুলো থেকে এদের উৎখাত করুন, পবিত্র ভূমি থেকে এদের নির্মূল করুন। এই পৃথিবী থেকে সন্ত্রাসবাদ সমূলে উপড়ে ফেলুন।’

ট্রাম্প তার বক্তৃতায় আরো বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির জন্য অপেক্ষা করলে চলবে না। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেদের, দেশের এবং তাদের শিশুদের জন্য কেমন ভবিষ্যৎ দেখতে চান।

‘আমরা এখানে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আসিনি। মানুষ কিভাবে বাঁচবে, কি করা উচিত, কাদের করা উচিত বা কিভাবে ধর্ম পালন করা উচিত- এসব বলার আমরা এখানে উপস্থিত হয়নি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা মন্দ শক্তিকে নিঃশেষ করতে পারি মাত্র একটি উপায়ে। আর তা হচ্ছে, আমরা সব ভালো শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী হই। আর এই মিলনায়তের সবাই যদি তাদের ন্যায়সঙ্গত কাজটা করে এবং তাদের দায় পরিপূর্ণভাবে মেটায়। শত্রুদের ধ্বংস করতে মধ্যেপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই।’

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্পের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। নয় দিনের এই সফরে ট্রাম্প সৌদি আরবের পর ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, বেলজিয়াম, ভ্যাটিকান এবং সিসিলিতে যাবেন। সৌদি সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছেন তার মেয়ে ইভাঙ্কা ও তার স্বামী হোয়াইট হাউসের পরামর্শক জ্যারেড কুশনার।

Facebook Comments