যুবক নির্যাতন:রাজাপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

মে ৩০ ২০১৭, ২৩:৫০

রাজাপুর প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরের দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামে নাজমুল হোসেন রাহাত হাওলাদার (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে পিটিয়ে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি সাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতনের স্বীকার ওই যুবকের মা জাতীয় জয়ীতা পদকপ্রাপ্ত হেলেনা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমেনা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বরিশাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিকেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। বর্তমানে দীর্ঘদিনের ছাত্রদল কর্মী রাহাত হাওলাদার উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেন মাষ্টারের ছেলে বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৪ মে সকালে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তাঁরাবুনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের দোকানী ইউসুফ আলীর কাছে পাওনা টাকা চাইতে যায় হেলেনা বেগমের ছেলে রাহাত। টাকা না দেওয়ায় দোকানীর সঙ্গে রাহাতের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পরে ইউসুফের অভিযোগের ভিত্তিতে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান তাঁর লোকজন নিয়ে হেলেনা বেগমের বাড়িতে যায়। তাঁরা রাহাতকে বাড়িতে বসেই পরিবারের সদস্যদের সামনে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। এরপর রাহাতকে ওই এলাকার

আমতলা বাজারে, লেবুবুনিয়া বাজারে ও নৈকাঠি বাজারে কয়েক দফায় মারধর করে উলঙ্গ করে ফেলে। এতে রাহাত অচেতন হয়ে পড়লে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে চেয়ারম্যানের লোকজন ৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বলে হেলেনা বেগম অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় রাহাতের নামে ওই দিনই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে রাহাতকে আহতাবস্থায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে রাহাত ঝালকাঠির জেল হাজতে রয়েছে। মামলার বাদীর আইনজীবী আক্কাস সিকদার জানান, ঘটনার পর থেকে মামলার বাদীকে আসামীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এমনকি ঘটনা কাউকে না জানাতেও হুমকি দেওয়া হয়। এ ব্যপারে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাহাত এলাকায় চিহ্নিত একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। রাহাত এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছে মাদকের জন্য চাঁদা দাবি, হুমিক ও কয়েকটি দোকানে হামলা করায় তার অত্যাচারে এলাকার লোকজন ইয়াবাসহ তাকে ধরে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে। পুলিশও তাকে ধরার জন্য এলাকার লোকজনকে অনুরোধ করেছিলো। এছাড়া মাদকাসক্ত ছেলেকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য রাহাতের পরিবারও বহু বার পুলিশের কাছে সহযোগীতাও চেয়েছিলো, যা এলাকাবাসী সবাই জানে, তাই লোকজন তাকে ইয়াবাসহ ধরে পুলিশে দিয়েছে।

Facebook Comments