যে কারণে বরিশালে একই রশিতে প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মহত্যা!

মে ২১ ২০১৭, ১৫:৩৬

মুলাদী প্রতিনিধি ॥ বরিশালের মুলাদীর সফিপুর গ্রামে সোহেল ও টিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী সোহেল সরদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দু’পরিবার। সোহেল সরদার ওই দু’জনকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এ কারনে তারা এক দড়িতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়ে বলে জানিয়েছেন সোহেল ও টিয়ার পরিবার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোহেল সরদার প্রেমিক সোহেল ও প্রেমিকা টিয়াকে বিয়ে করিয়ে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় দু’জনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। কিন্তু তাদের বিয়ে নিয়ে সে টালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ সোহেল সরদার সৈয়দ বদরুল কলেজের জান্নাতুল ফেরদৌস টিয়া ও একই কলেজের ছাত্র সোহেলের একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে। তাদের দুজনকে সোহেল সরদার জানিয়ে দেয় নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে তাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না। এ জন্যও সোহেল সরদার ওই দু’জনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। কিন্তু তাদের নিকট ওই স্ট্যাম্প দেয়া হয়নি। সোহেল ও টিয়া বারবার সোহেল সরদারের নিকট স্ট্যাম্প চাইলে তা নিয়ে সে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। ওই স্ট্যাম্প আটকে সোহেল সরদার তাদের নিকট আবার মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় সোহেল সরদার

টিয়া ও সোহেলের নোটারী পাবলিকের কপি ফটোস্ট্যাট করে বিভিন্ন দেয়ালে ও গাছের সাথে ঝুলিয়ে দেয়। ওই স্ট্যাম্প নিয়ে টিয়াকে দেখানো হয়। এমনকি সোহেলও বিষয়টি জানতে পারে। এতে করে দু’পরিবারের মানহানি হলে সোহেল ও টিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ কারণে সোহেল ও টিয়া চিঠিতে সোহেল সরদারের বিচার করার জন্য তার বন্ধুদের দায়িত্ব দিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টিয়ার মা শারমিন বেগম জানিয়েছেন, তার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করায় তিনি সোহেল সরদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। একই কথা জানিয়েছেন সোহেলর মা জেদী বেগম। এদিকে স্থানীয় অপর একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সোহেল সরদার বরিশালের এক আইনজীবীর মুহুরী হিসেবে কাজ করছেন। এ কারনে এলাকায় নিজেকে আইজীবী পরিচয় দিয়ে জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। কেউ তার বিরুদ্ধাচারন করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দেয়। এছাড়া সোহেল সরদারের বিরুদ্ধে সফিপুরের মান্না সিকদার হত্যা মামলা এবং একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। সোহেল সরদার সফিপুরের জব্বার সরদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সাত বছর জেল খেটেছে। উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সফিপুরের একটি পরিত্যক্ত ঘরে সোহেল ও টিয়া এক রশিতে আত্মহত্যা করে।

সংবাদটি সংগৃহীত

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>