যে সিঁড়ি শক্তি বাঁচাবে

আপডেট : July, 19, 2017, 11:06 am

একজন সুস্থ মানুষ যতটা সহজে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারে, একজন অসুস্থের জন্যে ব্যাপারটা তত সহজ নয়।

বিশেষ করে যদি হাঁটুর রোগীদের কথা বলা হয়, তবে তাদের জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠা খুবই কঠিন একটি কাজ। কারণ আমরা যারা সুস্থ তারা জানিনা আসলে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে আমাদের হাঁটুর ওপর কতটা চাপ পরে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে হাঁটু যে পরিমানে বাঁকাতে হয় তাতে অনেক শক্তির দরকার পরে।

তাই কিছু বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী যৌথ ভাবে তৈরি করেছেন এমন এক সিঁড়ি যা দিয়ে ওপরে উঠতে বা নিচে নামতে গেলে হাঁটুতে খুব একটা চাপ পরে না। এমনকি ব্যাপারটা অনেকটা সমতলে হাঁটার মতোই। তারা প্রেসার সেন্সর এবং স্প্রিং এর সমন্বয়ে এমন এক সিঁড়ি তৈরি করেছেন যা আপনাকে হাঁটুর জটিল বাঁকানো থেকে মুক্তি দেবে। এমনকি একজন সুস্থ মানুষের জন্যেও ব্যাপারটা খুব আরামদায়ক হবে।

জর্জিয়া টেক এবং ইমোরি ইউনিভার্সিটির কিছু গবেষক অভিনব এই সিঁড়ি আবিষ্কার করেছেন। তারা গাণিতিক ভাবে প্রমাণ করেছেন তাদের তৈরি এই সিঁড়ি হাঁটুর ওপর প্রায় ২৬% চাপ কমাতে সক্ষম। এবং অন্যান্য সাধারণ সিঁড়ির তুলনায় এটা পরিশ্রম কমায় প্রায় ৩৭%।

কিন্তু কথা

হলো, চলন্ত সিঁড়ি এবং লিফটের এই যুগে কেন এই ধরনের সিঁড়ির দরকার পরলো? দরকার পরার আসল কারণ হচ্ছে বাস্তবতা। চলন্ত সিঁড়ি কিংবা লিফট চাইলেই বাসা-বাড়িতে স্থাপন করা সম্ভব না। প্রথমত, এটা সবার সাধ্যের ভেতর না, দ্বিতীয়ত জায়গার অভাব। সে তুলনায় নতুন আবিষ্কৃত সিঁড়ি ব্যয় যেমন কম তেমনি এটা সাধারণ সিঁড়ির মতোই ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে এটা বিদ্যুৎ খরচ করে খুব কম। এর প্রধান কর্মকৌশল স্প্রিং এর ওপর নির্ভরশীল।

এই ধারণার প্রবর্তকদের একজন এবং ইমোরি ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিক্যালের অধ্যাপক লিনা টাং বলেন, এটা দিয়ে সিঁড়ি ভাঙ্গার অর্থ আপনি যেন আপনার গাড়িতে ব্রেক কষছেন সেরকম। মানে গাড়িতে ব্রেক চাপতে যতটা শক্তি ব্যয় হয়, এই সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে বা নামতে সেরকম শক্তি ব্যয় হবে। এই ধারণা সবার প্রথম আসে এই গবেষণা দলের লিও’র মাথায়। যখন তিনি দেখেন তার ৭২ বছর বয়সি মা’র সিঁড়ি দিয়ে ওপরে যেতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন তিনি চিন্তা করেন, কিভাবে এমন এক সিঁড়ি প্রবর্তন করা যায় যা খুব সহজে এবং কম খরচে স্থাপন করা যায়।

Facebook Comments