যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

সেপ্টেম্বর ২০ ২০১৭, ১৭:৩৩

sdr

আমতলী প্রতিনিধি: আমতলীর সেকান্দার খালী গ্রামে রিপা (১৮) নামের এক গৃহবধূকে ২ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে মধ্য যুগীয় কায়দায় তার স্বামী আবু হানিফ হাওলাদার (২৬) কর্তৃক হাত পা বেঁধে ঘড়ের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে এবং হাতে পায়ে সুই ঢুকিয়ে নির্যাতন করে ঘড়ে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দীদশা থেকে উদ্ধার করে ওই গৃহবধূকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত ওই গৃহবধূ রিপা ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ মে মাসে আমতলী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আমতলী গ্রামের মৃত্যু তোফাজ্জল হাওলাদারের মেয়ে রিপার সাথে একই ইউনিয়নের সেকান্দার খালী গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে আবু হানিফ হাওলাদারের সাথে বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় পিতৃহীন তোফাজ্জল হাওলাদারের মেয়ে রিপার মা এবং তার চাচারা মিলে নগদ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্নের চেইন, কানের দুলসহ সংসারের যাবতীয় মালামাল দিয়ে দেন। এসকল মালামাল পাওয়ার পরও হানিফের মন না ভরায় স্ত্রীকে বাবার বাড়ী থেকে আরো টাকা এনে দেওয়ার জন্য প্রায়ই চাপ দিত এবং টাকা না পেয়ে মারধর করত।

গত রবিবার দুপুরের সময় রিপার স্বামী হানিফ তার বাবার বাড়ি থেকে ব্যবসার জন্য ২ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। রিপা তাতে রাজি না হওয়ায় তার গলা থেকে স্বর্নের চেইন এবং কানের দুল খুলে নিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে ঘড়ের দরজা জানালা বন্ধ করে গরু বাঁধা দড়ি দিয়ে রিপার হাত পা বেঁধে ঘড়েরর আড়ার সাথে উল্টা করে ঝুলিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করেন।

নির্যাতনের এক পর্যায়ে রিপার পায়ের নীচে এবং শরীরের বিভিন্ন যায়গায় সুই দিয়ে ছিদ্র করে দেন। এ সময় রিপার ডাক চিৎকার দিলেও হানিফের ভয়ে রিপাকে রক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। এভাবে নির্যাতনের পর রিপাকে ৩ দিন ধরে ঘড়ের মধ্যে আটকে রাখা হয়। এসময় তার মোবাইল ফোনটিও পর্যন্ত কেড়ে নেয় তার স্বামী হানিফ।

মঙ্গলবার বিকেলে রিপার

ছোট বোন মিম তার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে বোন রিপার নির্যাতনের খবর পেয়ে সে বাড়ি এসে তার মা রিনা বেগমকে জানালে মা তার দেবর মেয়ের চাচা আনোয়ার হাওলাদারকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হানিফ বাড়িতে উপস্থিত হয়ে রিপাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতাল সয্যায় কান্না জরিত কন্ঠে রিপা জানান, বিয়ার দুই বছরের মধ্যে যৌতুকের লইগ্যা মোর স্বামী হানিফ মোরে অনেক মাইর ধইর করছে। রবিবার মোরে মারডে গোনে ২ লাখ টাহা আইন্যা দেতে বলে। মোর মায় এত টাহা পাইবে কই এই কথা কওনের পর মোর উপর মাইর ধইর শুরু করে। রইববার সন্ধ্যায় গরু বাঁধা দড়ি দিয়া হাত পা বাইন্ধা আড়ার সাথে ঝুলাইয়া মোটা লাঠি দিয়া মেদম পারপিট করে। এই রহম মোরে দুই বার মার ধর করে । হের পর মোরে ৩ দিন ধইর‌্যা ঘড়ে আটকাইয়া রাহে। এসময় মোর পায়ে এবং শরীরে হুই (সুই) ঢুকাইয়া নির্যাতন করে।

রিপার মা রিনা বেগম জানান, মোরা গরিম মানুষ ২ লাখ টাহা কুমিদ্দা দিমু। টাহার লইগ্যা মোর মাইয়াডারে ৩ দিন ধইর্যাা আটকাইয়া মাইর ধইর করছে। খবর পাইয়া মাইয়াডারে উদ্ধার কইর‌্যা মঙ্গলবার সন্ধ্যা হালে আমতলী হাসপাতালে আনছি। মুই মাইয়াডারে মাইর ধইরের বিচার চাই। অভিযুক্ত হানিফের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর কোন কথা বলতে চাননি।

তবে তিনি জানান, আমি মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেন।
আমতলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: মোতাহার উদ্দিন মৃধা জানান, ২ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য রিপাকে অমানবিক কায়দায় নির্যাতন করে। রিপার স্বামী হানিফ হাওলাদার খুব খারাপ প্রকৃতির ছেলে। তার কঠিন বিচার হওয়া উচিত। বিষয়টি আমি আমতলী থানাকে জানিয়েছি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্ল্যাহ জানান, ঘটনা সত্য এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি মামলা হলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments