রমজানের শেষ সময়ের প্রস্তুতি

মে ২৫ ২০১৭, ১৫:০৩

পবিত্র রমজানের রোজা পালন এবং ইবাদত-বন্দেগি করতে প্রস্তুতি গ্রহণের মাস শাবান। মুয়াজ্জিন যেমন আজান দেয় নামাজের প্রস্তুতির জন্য; ঠিক শাবান মাসও মানুষকে রমজানের প্রস্তুতির আহ্বান করে থাকে।

পবিত্র রমজানের শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত মুমিন মুসলমান। আজ ২৮ শাবান; আগামীকাল (২৬ মে ২০১৭) শুক্রবার পশ্চিম আকাশে চাঁদ দেখা গেলেই মুসলিম উম্মাহ তারাবিহ নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিবে। শনিবার (২৭ মে ২০১৭) শনিবার পালন করবে প্রথম রোজা।

পবিত্র রমজান মাস বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। রমজানের ফজিলত লাভে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা মুসলমানের জন্য আবশ্যক কর্তব্য। কারণ আল্লাহ তাআলা পুরো রমজান মাস রোজা পালন করাকে বান্দার জন্য ফরজ করেছেন।

এ মাসেই তিনি মানুষের জন্য সর্বশেষ এবং শ্রেষ্ঠ আসমানি গ্রন্থ আল কুরআন নাজিল করেছেন। যাতে মানুষ হেদায়াত, রহমত, বরকত, মাগফিরাত এবং দুনিয়া ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ লাভ করতে পারেন।

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এ মাসের মধ্যে রহমত মাগফেরাত নাজাত সর্বোপরি মুসলিম উম্মাহর জন্য হেদায়াত নিহিত রেখেছেন। কুরআন হাদিসে যার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে-

>> পবিত্র রমজান মানুষের হেদায়াত লাভের মাস। আল্লাহ তাআলা কুরআনে তা ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মাস-ই হল সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন; যা মানুষের জন্য হেদায়াত। (সুরা বাকারা :

আয়াত ১৮৫)

>> রমজানে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শয়তানের শত্রুতা থেকে মুক্ত করে কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন। যাতে মানুষ বিনা প্রতিবন্ধকতায় আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। হাদিসে পাকে এসেছে, ‘যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে; তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আর অভিশপ্ত শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বুখারি)

>> পবিত্র রমজান মাসে মানুষ নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে চিরস্থায়ী শান্তির বাসস্থান জান্নাতের জন্য তৈরি করবে। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। (মুসনাদে আহমদ)

 

রমজানের করণীয়
যেহেতু রমজান মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের মাস, মাগফিরাত লাভের মাস এবং জাহান্নাম থেকে নাজাতের মাস। সুতরাং রমজানে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের জন্য শাবান মাসে গৃহীত প্রস্তুতিতে রমজানের রোজা পালন এবং নফল ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

ফরজ ইবাদত-বন্দেগি নামাজ, জাকাত, রোজা পালনের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজ, দান-অনুদান করার মাধ্যমে সব ফরজ ইবাদতের ঘাটতি পূরণে সজাগ ও সতর্ক থাকা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজা পালন এবং শেষ সময়ের প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করার এবং রমজানের রহমত মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>