রাজধানীতে সেমাই-চিনি কেনার ধুম

পবিত্র ঈদে সকালে মিষ্টি মুখ করা এবং অতিথিদের আপ্যায়নে সেমাই, চিনি দুধ কেনাকাটায় ব্যস্ত  রাজধানীবাসী। ঈদ সমাগত, তাই শেষপর্যায়ে মানুষ এখন ছুটছেন সেমাই-চিনি কিনতে ভোগ্যপণ্যের বাজারগুলোতে।

চাহিদা বাড়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এবারের ঈদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাসমতি চালও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ক্রেতারা মাছ মাংসের বাজারেও ছুটছেন। ঈদে অতিথিদের আপ্যায়নে ইলিশ, চিংড়িসহ বিভিন্ন জাতের মাছ সংগ্রহ করছেন তারা।

রমজানের মাঝে চিনির দাম কিছুটা কমলেও ঈদ সামনে রেখে কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭২-৭৫ টাকায়। মিল্ক ভিটা, আড়ং ও প্রাণ তরল দুধের দাম লিটারে বেড়েছে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। বর্তমান প্রতি লিটার তরল দুধ ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে বিক্রেতাদের ধারণা দাম আরো বাড়বে।

সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, জিগাতলা বাজার, নিউ মার্কেট বাজারসহ বিভিন্ন স্থানের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সুপার সপ ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের চাহিদা মতো পণ্য বিক্রি করতে দোকানের সামনেই বিভিন্ন মানের সেমাই আর মশলার পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা চাহিদা মতো যে পণ্য চাচ্ছে বিক্রেতারাও সেভাবেই বিক্রি করছে। এসব স্থানে ক্রেতাদের পণ্য কিনতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ ছাড়া বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেমাই চিনি ও মশলা ছাড়াও গুঁড়ো দুধ, ঘি, সয়াবিন তেল, নারকেল, সুগন্ধি চাল, কিসমিস, বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদামসহ বিভিন্ন আইটেমের পণ্য বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

এদিকে, ঈদের আয়োজনে যেন সেমাই ছাড়া চলে না। তাই প্রতি বছরই ঈদ এলেই সেমাইয়ের কদর বেড়ে যায়। রাজধানীর নিউ মার্কেট বাজারে সেমাই কিনতে আসা রফিক হোসেন বলেন, ঈদে বাসা বাড়িতে সেমাই না হলে চলে না। ঈদের দিন সকাল থেকেই আত্মীয়-স্বজনরা আসতে থাকে। তাদের আপ্যায়নে সেমাই না হলেই নয়।

খুচরা মুদি দোকানে বনফুল, কুলসুন, প্রাণ, প্রিন্স, কিশোয়ান, ডেনিশ, প্রিন্স ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম লাচ্ছা সেমাই বিক্রি

হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। আর ৫০০ গ্রামের স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে সেমাইয়ের একাধিক পাইকারি বিক্রেতা জানান, গত বছরের চেয়ে এবার একটু বেশি দামেই সেমাই বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বাজারে অন্যান্য পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে সেমাইয়ের দাম সেভাবে বাড়েনি।

তিনি বলেন, সেমাইয়ের দাম ও সরবরাহ দুটো সঠিকভাবে চলছে। তবে ঈদ সংশ্লিষ্ট কিছু মসলা আর চিনির দাম উঠানামা করছে। বিশেষ করে রমজানের মাঝামাঝি সময়ে চিনির দাম কিছুটা কমলেও এখন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, সেমাই বিক্রির বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ফিরনি রান্নার অপরিহার্য অনুসঙ্গ গুঁড়ো দুধের বিক্রি বেড়ে গেছে। গুঁড়ো দুধ ডানো প্রতি কেজি ৫৭০-৫৮০, ডিপ্লোমা ৫৪৫-৫৫৫, ফ্রেশ ৪২০-৪৫০ এবং মার্কস ৪২০-৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা চাল মান ভেদে ৯৫-১০৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্যাকেট প্রাণ ও চাষী ব্র্যান্ডের চিনিগুঁড়া ১১০-১১৫ টাকা ও রাঁধুনী চিনিগুঁড়া ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদ বাজারে এবার বাড়তি চাহিদা বেড়েছে বাশমতি চালের।

বিক্রেতারা বলছেন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাশমতি চাল আমদানি হচ্ছে। দিন দিন এসব চালের ক্রেতা ও চাহিদা বাড়ছে।

প্রতি কেজি প্যাকেটজাত বাশমতি চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম বেড়ে গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫-১৬৫ এব দেশি ৩৭০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়ে গেছে খাসির মাংসের দাম। মানভেদে ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি খাসির মাংস। এ ছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে গরম মশলার বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে কিসমিস ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ২৬০ টাকা মূল্যের এক প্রকার কিসমিসের দাম ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া এলাচ পাওয়া যাচ্ছে ১৩৮০ টাকা কেজিতে। কালো কাঠ বাদাম কেজি ৬৩০ টাকা, সাদা কাঠ বাদাম ৭৫০ টাকা, কাজু বাদাম কেজি ৮৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে ঘি, প্রশাধনী সাবান বিক্রিও বেড়ে গেছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>