রাজাপুরে ঈদকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা বেপরোয়া, বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকান্ড

রহিম রেজা, রাজাপুরঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব রোজার ঈদকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার ফলে সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনদিন বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, ইভটিজিং, ব্লাকমেইলিং, চাদাবাজি ও যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবির অভিযানে ইতোমধ্যে রাজাপুর, কাঠালিয়া, নলছিটি ও ঝালকাঠিসহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযান চালিয়ে বড় কয়েকটি ইয়াবার চালানসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হলেও ধমানো যাচ্ছে না বড় বড় রাঘব বোলায়দের। ১৪ জুন বুধবার দুপুরে র‌্যাবের একটি দল উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিজিৎ সরকার (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ২শ’ ৪৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে র‌্যাব। অভিজিৎ ওই গ্রামের রনজিৎ সরকারের ছেলে। এর আগে ১০ জুন শনিবার কাঁঠালিয়ার আমুয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে ২৬’শ পিস ইয়াবাসহ সাইফুর রহমান কামাল নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। সম্প্রতি সময়ের সবচেয়ে বড় চালান এটি। কামাল হেতালবুনিয়া গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। একই দিন রাতে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বরিশালের কালিজিরা ব্রীজ এলাকা থেকে রাজাপুরের আলহাজ্ব লালমোন হামিদ মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে আটক করে বরিশালের ডিবি পুলিশ। মাহফুজ রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও মাহ্ফুজ রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক মনোহরপুর গ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মৃত আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যে কতটা বেপরোয়া তা কয়েকটি ধরা পড়া চালানের দিকে লক্ষ করলেই বোঝা যায়। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের ধরলেও তারা আবার কয়েকদিনের মধ্যেই জেল খেটে বের হয়ে সুদে-আসলে উসুল করার লক্ষে আবার এ পেশা-নেশায় উঠে পড়ে লাগে। আর প্রকৃত রাগব বোয়ালরা দলীয় ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ নিজেরা হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে তাদের ধরা থেকে দূরে থাকেন। ফলে ক্রমশই এদের পাল্লা ভারি হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে ছাত্র ও যুব সমাজসহ বিভিন্ন পেশার শিশু, কিশোর, যুবকরা। আর বেড়ে যাচ্ছে নানা অপরাধ প্রবনতা। মাদকের টাকা জোগার করতে বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় গিয়ে হামলা-ভাঙচুর, চাদাবাজি ও লুটপাট এবং ফাইল ও খোটবাগি করছে। একাধিক সূত্র জানান, অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হয়ে ব্যবসায়ী প্রতিপক্ষকে অথবা সেবনকারীকে ধরিয়ে দিয়ে তারা বীরদর্পে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র বলছে, বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক অঘটন ঘটিয়ে পুলিশকে ব্যস্ত রেখে চুপিসারে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। রাজপুর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ভূক্তভোগীরা মনে করছে, স্থানীয় মাদকসেবীরা চুরির সাথে জড়িত এবং ডাকাতদের সোর্স হিসেবে কাজ করে থাকে এসব মাদকের সাথে জড়িতরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখন মাদক বিকিকিনি ও

সেবনের অন্যতম স্পটগুলোর মধ্যে চর রাজাপুরের চর এলাকা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কাছে। কারন এ স্পট থেকে রাজাপুরের সকল স্পটগুলোতে এখান থেকে যাওয়া-আসা যায়। দিন রাত সমান তালে এ এলাকায় অপরিচিত মোটর সাইকেলের আনাগোনাই বলে দেয় যে এরা কারা?। তাতে থানা পুলিশের চোখে পড়ার ভয় থাকে না এদের। এছাড়া বাগড়ি বাজার হয়ে ইন্দ্রপাশা গ্রামের মধ্য থেকে যে সড়কটি সাউথপুর ব্রীজ এলাকায় গেছে, সেটাও এখন নিরাপদ মাদক সংশ্লিষ্টদের। এখান থেকে বাইপাস এলাকার বাদুরতলা মোড়, ডাকবাংলো মোড়, বাদুরতলা, বড়ইয়া, গাজিরহাট, পুটিয়াখালি, গালুয়া ও নলবুনিয়া এবং বালুর গোলা এলাকা ও বাগড়ি ব্রীজ এলাকা হয়ে বাগড়ি, পিংড়ি, বাড়ৈবাড়ি, কেওতা, হাইলাকাঠি, ইন্দ্রপাশা, সাংগর, মেডিকেল মোড়সহ বিভিন্ন স্পটে থানার সামনা ছাড়াই দ্রুত যাতায়াত করতে পারে মাদক সেবি ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া তারাবুনিয়া, কানুদাশকাঠি, বাদুরতলা, কেওতাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এসব স্পট থেকে পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব বেশ কিছু ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিপুল পরিমান গাঁজাসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও রাগববোয়ালরা ধরা না পরায় রাজাপুর ভাসছে এখন মাদকের সাগরে। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এখন গুটি বা বাবা অথার্ৎ ইয়াবা। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন কৌশলে কাউখালি, পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, নলছিটি, ঝালকাঠি ও নিয়ামতি ও কাঠালিয়া থেকে মাদকের চালান ঢুকছে রাজাপুরের বিভিন্ন স্পটে। মাদকের ছোবল এখন আর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বখাটে ও ধনী পরিবারের ছেলেদের মধ্যে মাদক সীমাবদ্ধ নেই। রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও ছাত্ররাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা এক ধরনের মাদক গ্রহণে সন্তুষ্ট নয়। পানীয় মাদকের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় ও ঘুমের ট্যাবলেট গুঁড়ো করে মিশিয়ে তারা পান করছে। এর স্থানীয় নাম ঝাক্কি। রাজাপুরের অধিকাংশ উঠতি বয়সের ছেলেরা এখন ঝাক্কিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। পিছিয়ে নেই মেয়েরাও তারাও এখন ইয়াবা সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িয়ে রাতারাতি ধনী বনে যাচ্ছেন। পুরুষের চেয়ে ইয়াবা বহন ও ব্যবসায় মেয়েরা অনেকটা নিরাপদ। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, মাদক বন্ধ করতে প্রতিটি সড়কে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করা জরুরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা ক্ষমতাসীন দল ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের তো ধরা ছোয়ার বাইরেই বরং এদের বিক্রেতাদের ধরলেও পড়তে হয় নানা হয়রানিতে। এমন কি বিভিন্ন সময় মিথ্যা, অসত্য ও বানোয়াট কুরচ্ছা রটিয়ে উল্টো হয়রানি করে থাকে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান,মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক সেবীরাই বিভিন্ন স্থানে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। ঈদকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর অভিযানের মাধ্যমে এদের আইনের আওতায় এনে নির্মূল সচেষ্ট রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>