রাজাপুরে চাল কুমড়া চুরির অপবাদে শিশু ছাত্রকে নির্যাতন

জুলাই ১৭ ২০১৭, ১৯:১৩

রাজাপুর প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়নের আরুয়া সোনারগাঁও গ্রামে রাজু আহম্মেদ নামে এক শিশুকে পরিত্যক্ত ঘরের আড়ার সঙ্গে গরুর রশি দিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেয়াশলাই জ্বালিয়ে তার হাতের আঙুলে আগুনের ছেঁকাও দেওয়ার ঘটনার রেস কাটতে না কাটতে মাত্র ১৬ দিনের মাথায় এবার উত্তর তারাবুনিয় গ্রামে চাল কুমড়া চুরির অপবাদে সগীর হোসেন (৯) নামে ৩য় শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রকে মারধরের পর খালের তীরে ফেলে পানিকে চুবিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার ১৬ জুলাই সন্ধ্যা এ ঘটনা ঘটে। রাতে তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সগীর সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ও উত্তর তারাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা আব্দুস সালাম রাজাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেছি। শিশু সগীর ও তার বাবা আব্দুস সালাম জানান, রোববার সকালে প্রতিবেশি হাবিবুর রহমান তার কুমড়া গাছ থেকে কিছু চাল কুমড়া কাটেন বিক্রির জন্য। এর মধ্যে একটি চাল কুমাড় চুরি হারিয়ে যায়। তখন কুমড়া মাঁচার পাশের হাটার পথ ধরে স্কুলে যাচ্ছিল সগীর।

কুমড়া হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে চোর সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার খেলাধূলার পর বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে হাবিবুর রহমান (৪০), একই গ্রামের জয়নাল মিয়া ও মামুন মিয়া সগীরকে ধরে নিয়ে বেধরক মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে পার্শ্ববর্তী খালের তীরে ফেলে চুবানোর চেষ্টা শুরু করলে সগীরের চিকিৎসারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। নির্যাতনে শিশু সগীর পায়খানা করে দেয়। চিকিৎসক জানান, সগীরের গলায় ও শরীরে মারধরে আঘাত রয়েছে, শিশুটি এখনও আতঙ্কগ্রসস্থ। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। তবে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের মোবাইলে কথা না বলে তার পুত্রবধূ ছনিয়া আক্তার বৃষ্টিকে কথা বলতে বলেন। তিনি দাবি করেন, সগীর কুমড়া চুরি করেছে, এর আগেও তাদের ঘর থেকেও বিভিন্ন জিনিস চুরি করেছে, এ জন্য সামান্য মারধর করেছেু। অভিযোগ উঠেছে, আরুয়া সোনারগাঁও গ্রামে রাজু আহম্মেদ নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হলেও ১৭ দিনেও পুলিশ মূল হামলাকারী সজীবসহ কোন আসামীকে গ্রেফতার না হওয়া এবং শিশু নির্যাতনকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>