রাজাপুরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা চেষ্টার পর ২মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু

আগস্ট ১২ ২০১৭, ২১:৫৭

রহিম রেজা, রাজাপুরঃ থেকে ঝালকাঠির রাজাপুরের পশ্চিম চারাখালি হাফেজ উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার দাসের বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমে প্রতারিত হয়ে ওই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ১ম রোলধারী ছাত্রী বর্নিতা হাওলাদার (১৫) চিরকুট লিখে আত্মহত্যার চেষ্টার শিকারের পর দীর্ঘ ২ মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শনিবার বিকেলে মারা গেছে। পুলিশ ওই ছাত্রীর বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করেছে এবং ছাত্রীর পরিবার এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বর্নিতা দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের বিপুল হাওলাদারের মেয়ে এবং ইন্দ্রজিৎ পশ্চিম চারাখালি গ্রামের রমেশ চন্দ্র সাথের ছেলে এবং পশ্চিম চারাখালি হাফেজ উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাসের ছোট ভাই। স্কুল ছাত্রী বর্নিতার ভাই বিপ্লব হাওলাদার জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বর্নিতার স্কুলের শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার দাস বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বর্নিতার সাথে প্রেমে সম্পর্ক গড়ে বাড়িতে যাওয়া-আসার করতো। সম্প্রতি বর্তিতার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের চেষ্টা করে বিয়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে মেয়ে দেখা শুরু করে, এ খবর নিয়ে তাদের মধ্যে মন বিরোধ শুরু হলে বর্তিতাকে গিফট দেয়া মোবাইল ফোনটি ইন্দ্রজি কৌশলে নিয়ে গিয়ে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে, এসব ঘটনার জেরে গত ৮ জুন গলায় ফাস লাগিয়ে নিজবাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বর্নিতা। পরিবারের

লোকজন তাৎক্ষনিকতাকে উদ্ধার করে প্রথম রাজাপুর, পরে বরিশাল শেবাচিম ও সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করালেও তার অবস্থার কোন উন্নতি না হয়ে মানষিকভাবে বিপর্যস্ত, নিমোনিয়া ও বুকে কফ জমে নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর দিকে দাবিত হতে থাকলে চিকিৎসকরা তার বাচাঁর আশা ত্যাগ করে তাকে ৩ আগস্ট বাড়িতে পাঠিয়ে দিলে শনিবার তার মৃত্যু হয়। স্কুল ছাত্রী বর্নিতার ভাই বিপ্লব হাওলাদার আরও জানান, বর্নিতা প্রথম শ্রেণি থেকেই প্রতি ক্লাসে ১ রোল ছিল এবং যথেষ্ট মেধাবী হওয়ায় তার স্বপ্ন ছিল জজ হওয়ায়। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ইংরেজিতে বক্তব্য দিতো বর্নিতা। বর্তিতার স্ব-হস্তে লেখা চিরকুটেরও তার জজ হওয়ার স্বপ্ন এবং তার মৃত্যুর কারন হিসেবে স্কুলের শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুমার দাসকেই দায়ী করেছে বর্নিতা। পরিবারের প্রতি তার অনুরোধ ইন্দ্রকে যেন শেষ করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ ওই ছাত্রীর চিকিৎসায় ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে এক প্রভাবশালীর ইন্দনে স্থানীয় একটি মহল এ ঘটনা শুরু থেকেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ওই ছাত্রীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

Facebook Comments