রাজাপুরে জাল সনদ দিয়ে স্কুলে চাকুরির চেষ্টা

জুলাই ২৪ ২০১৭, ২০:৫২

রহিম রেজা, রাজাপুর: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাকরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী পদে ৫ম শ্রেণি পাশ না করেই ৮ম শ্রেণির জাল সনদের মাধ্যমে চাকুরি নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। রোববার রাজাপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান সরেজমিন তদন্ত করেন। জানা গেছে, সাকরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী পদে মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১ টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছে ১০ জন। আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশ নিয়ে এসেছে স্কুল সংলগ্ন বাসিন্দা হায়দার আলীর ছেলে আল আমিন। সে প্রাথমিক সমাপনী পাশও না করে ৮ম শ্রেণির জাল সনদ দিয়ে চাকুরি গ্রহণের চেষ্টা করছে। আল আমিন জানান, আমি এ বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। বার্ষিক পরীক্ষার আগে ঢাকায় গিয়ে একটি কেজি স্কুলে ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। সেখানে ৩ বছর পড়াশোনা করে চর কেওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পাশ করেছি। পরে আবার শেখেরহাট ইউনিয়নের শেওতা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছি। কত সনে এবং তখনকার প্রধান শিক্ষক কে কে ছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আল আমিন বলেন, তা আমার মনে নেই, সার্টিফিকেট দেখে বলতে হবে। চর কেওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আঃ বারেক বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১৮ বছর এবং প্রধান শিক্ষক পদে ১২ বছর চাকুরি করেছি। সাকরাইলের হায়দার আলীর ছেলে আল আমিন নামের কেউ

আমার ছাত্র ছিল না। কিভাবে সে সনদ পেল এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক ওই প্রধান শিক্ষক বলেন, বাহিরের কম্পিউটার থেকে জাল সনদ তৈরি করে এবং স্বাক্ষর জাল করে জমা দিতে পারে। আমি তাকে কোন সনদপত্র দেইনি। এর পূর্বে জাল সনদ প্রদানের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদের নিয়োগ স্থগিত হয়ে যায়। আগামী মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) পুনরায় নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ পেতে শেওতা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পাশের সনদপত্র দিয়ে পুনরায় আবেদন করে। এবিষয়ে এলাকাবাসী রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে জাল সনদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে ইউএনও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান রোববার শেওতানিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। এসময় শেওতা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, রোববার সকালে দিকে শিক্ষা কর্মকর্তা এসে তদন্ত করেছেন। সাকরাইল গ্রামের হায়দার আলী’র ছেলে আল-আমিন নামে আমাদের বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী ছিলো না। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এ নামের কাউকে ৮ম শ্রেণি পাশের সনদপত্র দেয়া হয়নি। যদি কেউ ব্যবহার করে থাকে তা জাল সনদ। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল আমিন নামের কোন ছাত্রের হাজিরা খাতায় নাম দেখাতে পারেননি। সে ওখানের ছাত্র ছিলো না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>