রাজাপুরে শিশুকে উল্টো করে ঝুলিয়ে আগুনের ছেঁকা ও নির্যাতনের ঘটনায় মামলা

আপডেট : July, 4, 2017, 9:07 pm

রহিম রেজা, রাজাপুর: ঝালকাঠির রাজাপুরের আরুয়া সোনারগাঁও গ্রামে ৮ হাজার টাকা চুরির অপবাদে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মো. রাজু হাওলাদার নামে মাত্র ১১ বছরের শিশুকে তিনজন মিলে পরিত্যক্ত ঘরের আড়ার সঙ্গে গরুর রশি দিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। পর পর তিন দফায় মারধর করা হয়েছে তাকে। দেয়াশলাই জ্বালিয়ে তার হাতের আঙুলে আগুনের ছেঁকাও দেওয়া হয়েছে। এমন লোমহোর্ষক ঘটনার ৩দিন পর সোমবার রাতে ৫জনের নাম উল্লেখ্যপূর্বক আর অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-২) দায়ের করেছে রাজুর বাবা মোতালেব হাওলাদার। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, তিনি ছুটি শেষে সোমবার সন্ধ্যায় থানায় এসেই ওই শিশুর খোজখবর নিয়েই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অনতিবিলম্ববেই আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। শিশু নির্যাতরেন মূল হোতা ইয়াবা ব্যবসায়ী মাতাল সজিরসহ ৩ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকার জনমন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হুমকিতে বর্তমানে শিশুটির পরিবার এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তমপুর স্কুলের শিক্ষক রুহুল আমিনের সম্মান তার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী মাতাল সজিরের কারনে ধূলোয় মিশে যাচ্ছে, এ ঘটনা ধামাপাচা দিতে তিনি নিজেও কিছু ঔষধপত্র কিনে দিয়েছিলো

এবং বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকায় মাতাল হিসেবে পরিচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ছাত্রদল কর্মী সজির নানা অপকর্মে লিপ্ত, তার অত্যাচারে এলাকার লোক অতিষ্ট। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারনে তার বিরুদ্ধে র‌্যাব, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কিছুদিন পূর্বেও আরুয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সেক্রেটারি রাজিবকেও মারধর করেছে বেপরোয়া সজীব। প্রসঙ্গত, আরুয়া গ্রামের জাকির হাওলাদারের ৮ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ১জুন বিকেলে গরীব দিনমজুর মোতালেব হাওলাদারের ছেলে আরুয়া সোনারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু ছাত্র রাজু হাওলাদারকে স্থানীয় জাকির হোসেনের নির্জন ভিটার পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে এলাকার স্কুল শিক্ষক রুহুল আমিনের ছেলে ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী মাতাল সজীব হোসেন, হাকিমের ছেলে সাইদুল ও গৌরার ছেলে লিটন সেখানে কাপড়ের টুকরো দিয়ে তার মুখ ও চোখ ঁেবধে গরুর রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে মাথা নিচের দিকে ও পা ওপরের দিকে দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে হাতের আঙুলে দেয়াশলাইয়ের আগুনের ছেঁকা দেওয়া হয় এবং দা, লাঠি, কঞ্চি ও কাঠের টুকরো দিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।

Facebook Comments