রাজাপুরে স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

আপডেট : July, 27, 2017, 8:53 pm

রহিম রেজা, রাজাপুরঃ ঝালকাঠির রাজাপুরের বদরপুর গ্রামে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করার প্রতিশোধ নিতে সহযোগীদের নিয়ে স্ত্রী আঁখি বেগমকে (২৫) কে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে স্বামী জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন ঝালকাঠির বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ বজলুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেয়া এ রায়ে একইসঙ্গে আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায়ে তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এম আলম খান কামাল জানান, মৃত্যুদন্ডের রায়ের সময় স্বামী জাহাঙ্গীর হাওলাদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। মামলার বিবরণে জানা গেছে, রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের তাছেম আলীর মেয়ে আঁখি বেগমকে (২৫) চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ করেন পার্শ্ববর্তী চর ইন্দ্রপাশা গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার। এরপরও আঁখিকে চাকরি দেননি তিনি। উপায়ান্তু না পেয়ে আঁখি বিয়ের দাবি জানান জাহাঙ্গীরের কাছে। এতে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগে ঝালকাঠির আদালতে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আঁখি। পরে জাহাঙ্গীর তাকে বিয়ে করলে মামলা তুলে নেন তিনি। বিয়ের পর থেকে আঁখিকে নিয়ে ঢাকা বসবাস শুরু করেন তার স্বামী।

একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরের আরো একটি বিয়ে ছিল বলে খবর জানতে পারলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে আঁখিকে রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে নিয়ে আসেন তার স্বামী। এরপর গভীর রাতে তিন সহযোগীসহ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন আঁখিকে। পরের দিন সকালে একটি ডোবার মধ্য থেকে আঁখির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আঁখির মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। রাজাপুর থানার এসআই হানিফ সিকদার মামলার তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ১২ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় খালাসপ্রাপ্ত বাবুল তালুকদার ছাড়া সবাই পলাতক ছিলেন। খালাসপ্রাপ্ত অপর দুইজন হলেন বেল্লাল মৃধা ও সোনা হাওলাদার। তাদের বাড়ি রাজাপুরের চর ইন্দ্রপাশা গ্রামে। এদের মধ্যে সোনা হাওলাদার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছোট ভাই। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

Facebook Comments