লঞ্চে করে কুয়াকাটা

এপ্রিল ২৯ ২০১৭, ১৯:৪৩

এ বছর ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর বাবা আর বাবার এক লেখক-বন্ধু ঠিক করল ভ্রমণে যাবে। কোথায় যাওয়া যায়? একজন বলে সিলেট, আরেকজন বলে রাজশাহী, অন্যজন বলে ফরিদপুর। এভাবে চলতে থাকে।

তারপর সবাই ঠিক করল, কুয়াকাটা যাবে। কদিন পর আমরা রওনা হই কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য। লঞ্চ ছাড়বে সন্ধ্যায়। কিন্তু আমরা লঞ্চঘাটে পৌঁছলাম দুপুরে। বিশাল লঞ্চে ব্যাগ রেখে আমরা খেতে গেলাম ‘বিউটি বোর্ডিং’য়ে। বিউটি বোর্ডিং পুরান ঢাকার বিখ্যাত হোস্টেল। আমরা খেয়েদেয়ে আস্তেধীরে লঞ্চের দিকে রওনা হই।

আমাদের লঞ্চের নাম ছিল সুন্দরবন-৯। এই প্রথমবার আমার লঞ্চে ওঠা। ভিআইপি কেবিনে চারটি সুন্দর সুন্দর ঘর। সব কয়টা ঘরের নাম রঙের নামে। ঘরগুলোর রংও ছিল আলাদা আলাদা। আমাদের পরিবার ছিল সবুজ ঘরে। আর বাবার লেখক-বন্ধুর পরিবার ছিল লাল ঘরে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লঞ্চ ছাড়ে। আমরা লঞ্চ ছাড়ার আগে আগে লঞ্চের ছাদে যাই। ছাদে অনেক কিছু বিক্রি করছিল। লঞ্চ ছাড়ার পর ঠান্ডা লাগতে শুরু করল। আমরা কেবিনে ফিরে এলাম। তারপর কেবিনে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কারণ, ভোরে উঠতে হবে।উঠে দেখলাম আমরা পটুয়াখালীতে। তারপর রওনা দিলাম কুয়াকাটার দিকে।

মাঝরাস্তায় নাশতা খেলাম। কুয়াকাটায় পৌঁছলাম দুই ঘণ্টা পর। পর্যটনের হোটেলে ছিলাম। খুব সুন্দর। নিচে ছিল বিরাট জায়গা। ওখানে একটি মাছরাঙা পাখি বসে ছিল। আর

ছিল আমলকীগাছ। গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে আমলকী। আমরা প্রায় এক কেজির মতো আমলকী তুললাম। এরপর চললাম সমুদ্রসৈকতে।

সমুদ্রের ঢেউয়ে অনেকক্ষণ দাপাদাপি করে হোটেলে ফিরলাম। বিকেলে আবার সৈকতে গেলাম সূর্যাস্ত দেখতে। খুব সুন্দর লাগল যখন সূর্য ডুবতে থাকল। তরপর সৈকতের পাশে দেখলাম তাজা মাছ ভাজছে। আমরা মাছভাজা খেলাম। মাছের নাম বাঁশপাতা। এই মাছ আগে কখনো দেখিনি। এই মাছের দুই পিঠ দুই রকম। এক পিঠ রুপালি, এক পিঠ কালচে।

পরদিন অনেক ভোরে যাই কাউয়ার চরে। ওখানে সূর্যোদয় দেখলাম। আরও দেখলাম লাল কাঁকড়া। ওখানের স্থানীয় ছেলেরা কাঁকড়া বের করছিল। গর্তে সমুদ্রের পানি ঢেলে দিলে কাঁকড়া বেরিয়ে আসে।

এরপর গেলাম বৌদ্ধ মন্দিরে। ওখানে গৌতম বুদ্ধের বিশাল মূর্তি। এত বড় মূর্তি আমি আগে দেখিনি। আমরা গেলাম রাখাইনপল্লিতে। ওখানে মা চাদর কিনল। এর মধ্যেই আমরা সকালের নাশতা করলাম। নাশতার আগে একটা বৌদ্ধ মন্দির দেখেছি। আর নাশতার পরে আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির দেখেছি। দুপুরে আমরা হোটেলে ফিরলাম।

দুপুরের পর গেলাম শুঁটকিপল্লিতে। ওখানে হাজার হাজার শুঁটকি। ওখান থেকে অনেক শুঁটকি কিনলাম আমরা। এরপর গেলাম তিন নদীর মোহনায়। নদীর ওই পারে দেখা যায় সুন্দরবনের একটা অংশ। ওটার নাম ফাতরার বন।

আমাদের আর ফাতরার বনে যাওয়া হয়নি। পরের দিন ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলাম।

দ্রানুপা আনজানা

তৃতীয় শ্রেণি, আহছানিয়া মিশন স্কুল (প্রথম আলো অবলম্বনে)

Facebook Comments